চার জেলায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:২৩, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৯, অক্টোবর ১৮, ২০২০

পানিতে ডুবে গেছে শিশু

চার জেলায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালী, নরসিংদী, পিরোজপুর ও নীলফামারীতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।এরমধ্যে পটুয়াখালীতে পৃথক এলাকায় দুজন এবং পিরোজপুরেও দুটি শিশুর অপমৃত্যু হয়েছে। আর মৃতদের মধ্যে ৫ জনই শিশু।

পটুয়াখালী সংবাদদাতা জানান, জেলার গলাচিপা ও কলাপাড়া উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক বৃদ্ধ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণকলস এলাকায় একটি জামে মসজিদের পুকুরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ডুবে মারা যাওয়া বৃদ্ধের (৬২) নাম জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি ২ দিন ধরে ঐ এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তবে এলাকার কেউ তাকে চিনতো না। দেখে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হয়েছে। সকালে গোসলের করার জন্য মসজিদের পুকুরে নেমে ডুব দেন তিনি। কিন্তু, আর ওপরে উঠে নাই। পরে পুকুর ঘাটে থাকা লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় পানির ওপরে উঠায়। গলাচিপা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালীর মর্গে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মাঝের হাওড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে মানসুরা (৪) এর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল ৪ টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মানসুরা লালুয়া ইউনিয়ানের মাঝের হাওড়া গ্রামের মো. নিজামের মেয়ে।

জানা গেছে, দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে বাড়ির পুকুরের সামনে খেলাধুলা করছিল মানসুরা। এমন সময় পুকুর পাড় থেকে পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন পুকুর থেকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতাল নিয়ে আসলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মানসুরা কে মৃত ঘোষণা করেন।

সাইফ

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে সাইফ (১৪) নামে এক  স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত সাইফ শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ও শিবপুর মডেল থানার উপ পরিদর্শক আলমগীর হোসেনের ছেলে।

শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে যায় সাইফ। দীর্ঘ সময় পরও বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার বন্ধুদের বাসায় খোঁজ করেও সাইফের সন্ধান পাননি। বিকালে উপজেলা পরিষদের পুকুরে খোঁজ করতে গিয়ে জুতা ভাসতে দেখা যায়। খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

সাঁতার না জানায় পুকুরের পানিতে তলিয়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামে শনিবার সকালে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হল ইসরাফিল হাওলাদার(৪) ও আইউব হাওলাদার (৪)। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই।

ভান্ডারিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাকসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসরাফিল হাওলাদার এর বাবা প্রবাসে থাকেন আর আইউব হাওলাদার এর বাবা ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন।

মৃত শিশু দুটির পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সকালে ইসরাফিল হাওলাদার ও তার চাচাতো ভাই আইউব হাওলাদার তাদের  প্রতিবেশীর বাড়ির উঠানে খেলছিল। সবার অলক্ষে তারা খেলার এক পর্যায়ে  ঐ উঠানের পাশে থাকা পুকরে পড়ে যায়।

মৃত দুই শিশুর চাচাতো বোন যুথী জানায়, সে পুকুর পাড়ে গেলে প্রথমে বুদবুদ দেখতে পায়। এরপর একজনকে বিষয়টি দেখতে বলে। এসময় ইসরাফিলের মাথা জেগে ওঠে। পরে আইউব হাওলাদারকে পুকর থেকে উদ্ধার হয়। ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক  ইমাম হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে  ঐ শিশু দুটিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীতে পুকুরের পানিতে ডুবে আড়াই বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ওমর ফারুক।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে।

সদর থানা ওসি (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে সোনারায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সকালে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড়ে অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলছিল শিশু ওমর ফারুক। এক পর্যায়ে সে পুকুরের পড়ে পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে, পরিবারের সদস্যরা পুকুরে পানিতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

নীলফামারী সদর থানা ওসি (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিবারে পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

/টিএন/

লাইভ

টপ