চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ, অভিযোগ পেয়েও নিশ্চুপ রেলওয়ের জিএম

Send
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১১:৪৪, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩০, অক্টোবর ১৮, ২০২০

টাকা জমা দেওয়ার রশিদ


মেয়ের জামাইকে চাকরি দিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশল অফিসের কর্মচারী আবু ছিদ্দিক ওরফে সুমনকে নগদ ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন রক্তিমা শাহা। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ওই টাকা নেন সুমন। খালাসি পদে চাকরি দেওয়ার নামে ওই টাকা নিলেও রিপনকে চাকরি দেননি সুমন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ উঠেছে, সুমন চাকরির নাম করে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনও ফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী। টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে গত চার বছর ধরে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সর্দার শাহাদাত আলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রক্তিমা শাহা। তাতেও কোনও কাজ হয়নি। 

রক্তিমা শাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুমনের বাসা আমার বাসার পাশেই। আমার ছেলে লিটন শাহার সঙ্গে সে আমাদের বাসায় প্রায় আসতো। একদিন আমাকে বলে আপনাদের পরিচিত কেউ আছে রেলওয়ে চাকরি করবে। তাহলে তাকে চাকরি দেওয়া যাবে। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা তার পরিচিত। তাদের সঙ্গে তার ওঠা-বসা। সুমন বলে, আমার জামাইয়ের চাকরি অবশ্যই হবে। লক্ষ্মীপুর থেকে একজনের চাকরি হলেও আমার মেয়ের জামাইয়ের চাকরি হবে। সুমন আমাদের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তার কথা বিশ্বাস করে রাজি হই। এরপর চাকরির জন্য তাকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকার আরও একটি চেক দেই। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট শহিদুল ইসলাম নামে ওয়ান ব্যাংকের ০৭৭২০৫০০১১০৬৬ হিসাব নম্বরের বিপরীতে নগদ এই ৩ লাখ টাকা নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাকরি হবে বলে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরানোর পর সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর সুমন জানায় আমার মেয়ের জামাইয়ের চাকরি হবে না। এরপর টাকা ফেরত দিতে বলি। কিন্তু কোনোভাবে সে আমাদেরকে টাকা ফেরত দিচ্ছে না। আমি সুদে টাকা নিয়ে তাকে দিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত ওই টাকার সুদ পরিশোধ করছি। সুমনকে বারবার বলার পরও আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দিয়েছি। গত ১০ মাসে তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। থানায় অভিযোগ করেছি তারপরও সুমন আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর এ বিষয়ে আমি রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের কাছে অভিযোগ করেছি।’

 


এ বিষয়ে সুমন বলেন, রক্তিমা শাহার কাছ থেকে তিনি কোনও টাকা নেননি। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় জুয়েল রক্তিমা শাহার মেয়ের জামাইকে চাকরি নিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছিলেন। চাকরির জন্য যে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন ওই টাকা জুয়েল নেননি। ঢাকায় একজনকে দেওয়া হয়েছে। ওই লোক টাকা দিচ্ছে না। তাই তাদেরকে টাকা দিতে পারছেন না। জুয়েল রক্তিমা শাহাকে ঢাকায় ওই লোকের কাছে যেতে বলেছে। কিন্তু তারা ঢাকায় যেতে রাজি হচ্ছে না। 
জুয়েল ঢাকায় কাকে টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে সুমন কিছু বলতে রাজি হননি। কাকে টাকা দিয়েছে সেটি তিনি জানেন না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। 
পরে এ বিষয়ে জানতে জুয়েলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
রক্তিমা বলেন, ‘টাকা উদ্ধার করতে না পেরে গত এক বছর বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছি। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হচ্ছে না। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। তারাও কোনও উদ্যোগ নেননি। সহযোগিতা দূরে থাক, মনোযোগ দিয়ে অভিযোগ পর্যন্ত শুনেন না এসব কর্মকর্তা। আর এসব অভিযোগ করতে গিয়ে আমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। সুমন আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।’ 


রক্তিমা শাহার লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সর্দার শাহাদাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তো কী হয়েছে? এ রকম অভিযোগ প্রতিদিন আমাদের কাছে ৫-৭টা আসে। আসলে এগুলো আমরা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দিই। ওই বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। ওই নারী অভিযোগ করেছে কী নিয়ে, ওই অভিযোগ কোন বিভাগে, কার কাছে পাঠিয়েছি আমার জানা নেই। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না, লিখিত অভিযোগটি কোথায় গিয়েছে।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘টাকা লেনদেন করতে কী আমরা তাদের কাউকে বলেছি। তারা নিজেরা নিজেরা লেনদেন করবেন। পরে টাকা উদ্ধার করতে না পারলে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। না জেনে তারা টাকা লেনদেন করে কেন?’

 

 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ