চার্চের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

Send
ইব্রাহীম রনি, চাঁদপুর
প্রকাশিত : ২০:৪০, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, অক্টোবর ৩১, ২০২০

চাঁদপুর শহরের ব্যাপ্টিস্ট চার্চের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হয়, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মূল্যবান ২৭ শতাংশ জমি কৌশলে কম মূল্যের জমির সঙ্গে বিনিময় এবং আরও ১৩ শতাংশ জমি স্ত্রী, শ্যালক-শ্যালিকাসহ কয়েকজনের নামে বিনিময় ছাড়াই লিখে দেন বিবিসিএফ ট্রাস্ট [বাংলাদেশ ব্যাস্টিস্ট চার্চ ফেলোশিপ] সাধারণ সম্পাদক লিয়র প্রতীম ও তৎকালীন চার্চ সভাপতি-সম্পাদক। এতে করে চার্চের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ লোপাট হওয়ার অভিযোগ এনে তা উদ্ধারে লিয়র প্রতীমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেন চার্চের সম্পাদক শলোমন মণ্ডল।
দুদকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় চাঁদপুর চার্চের অনুশাসনের ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এই অবস্থায় চার্চের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আমরণ অনশনে বসেন শলোমন মণ্ডলসহ কয়েকজন। তবে তিন দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতিতে শুক্রবার রাতে অনশন ভঙ্গ করেন।

চাঁদপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সূত্রে জানা গেছে, চার্চের বাউন্ডারি দেয়ালের ভেতরে রাস্তার পাশের দক্ষিণ দিকে ৬০৮৭ দাগে ট্রাস্টের পুকুরে ২৭ শতাংশ জমি রয়েছে। এই সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি শতাংশ প্রায় ৪০ লাখ টাকা। আর এই পুকুরের পেছনের অংশে উত্তর দিকে ৬০৮৪ দাগে লিয়র প্রতিম সরকারের শ্বশুরপক্ষসহ কয়েকজনের ব্যক্তি মালিকানায় সম্পত্তি রয়েছে। যার বাজার মূল্য শতাংশ প্রায় ৫ লাখ টাকা। রাস্তার পাশে হওয়ায় চার্চের সম্পত্তি মূল্য অনেক বেশি। পাশাপাশি জমি থাকার সুযোগকে কৌশলে চার্চের জমির সঙ্গে স্বজনদের ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তির সঙ্গে এয়াজবদল করে তা ছয় মাসের মধ্যেই বিক্রি করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অতিরিক্ত ১৩.৯২ শতাংশ ট্রাস্টের সম্পত্তি কোনও বিনিময় ছাড়াই লিয়রের স্ত্রীসহ স্বজনদের নামে লিখে দেওয়া হয়। এ বিষয়টি জানার পর চার্চের বর্তমান সম্পাদক শলোমন মণ্ডল জেলা প্রশাসক এবং পরে দুদকে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে বিবাদী করা হয় ট্রাস্টের সম্পাদক লিয়র প্রতীম সরকার, তার শ্যালক মি. হিমেল বোস, মিসেস লিজা দেওয়ান, তার স্ত্রী লেসলি সরকার, শাশুড়ি জয়ন্তী বোস, তৎকালীন চার্চ সভাপতি মনিন্দ্র বর্মণ, রমেশ চন্দ্র মণ্ডল ও তৎকালীন চার্চ সম্পাদক জি এম শফিউল আলমকে।

দুদক এই অভিযোগ পাওয়ার পর সদরের সাব রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাঁদপুর জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু এখনও প্রতিকার না হওয়ায় চার্চের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

চাঁদপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সম্পাদক শলোমান মণ্ডল বলেন, 'আমাদের চার্চের পুকুরের সামনের অংশটি রাস্তার পাশে হওয়ায় তা খুবই মূল্যবান। আর পেছনের ব্যক্তিমালিকানা অংশটির মূল্য অনেক কম। ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি তার ও তার স্বজনদের স্বার্থের জন্য কমমূল্যের সম্পত্তির সঙ্গে বেশি মূল্যের সম্পত্তির বিনিময় করে তা বিক্রি করেন। এতে করে চার্চ এবং ট্রাস্টের প্রায় ৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, 'আমি কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেইনি। আমি দিয়েছি ৯ জন ব্যক্তি বিরুদ্ধে। আমি দুদকে অভিযোগ দেওয়ার কারণে ঢাকার জেনারেল সেক্রেটারি এবং চাঁদপুরের রেভারেন মনিন্দ্র বর্মণের চক্রান্তে সেন্ট্রাল কমিটির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে খ্রিস্টিয়ান সমাজ থেকে বহিস্কারের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও স্থানীয় চার্চ এটির স্বীকৃতি দেয়নি। এই অবস্থায় চার্চের সম্পত্তি উদ্ধারের লক্ষে অবৈধ বণ্টননামা বাতিলকরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা আমরণ অনশনে বসি। তবে শুক্রবার জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে অনশন ভঙ্গ করেছি। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।'

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাস্টিস্ট চার্চ ফেলোশিপ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক লিয়র প্রতীম সরকার বলেন, ট্রাস্ট আমাদের কমিউনিটির লোকজনের জন্যই কাজ করে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সবকিছু করা হয়েছে। সেখানে হয়তো দলিলে কিছু ভুল হয়েছে যা সংশোধনযোগ্য। কিন্তু ইনটেনশনালি কিছু করা হয়নি। আমরা সংশোধনযোগ্য কিছু ভুল সংশোধন করতে পারি। কিন্তু এতে শলোমন মণ্ডল রাজি না।'

তিনি বলেন, '১৩ শতাংশের যে কথাটি, সেটি ভুল করে বোসদের ভিটির জমি পুকুরে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মাইনর ভুল। আর ২৭ শতাংশ চার্চ এবং কমিউনিটির লোকজনের সুবিধার্থে মিউচুয়াল স্পিরিটে তা বণ্টননামা করা হয়েছে। সামনের অংশের অর্ধেক এখনও আমাদের আছে। আর বাকি অর্ধেক কমিউনিটির লোকজনের মধ্যে বদল করা হয়েছে। এতে তাদের কিছুটা সুবিধা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'শলোমন মণ্ডলের সঙ্গে চার্চের কোনও লোকজন নেই। সে যেসব অভিযোগ করছে তা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর। সে আসলে সমাধান চায় না।'

 

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ