রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই অনুষদের শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে।তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অনলাইনে ফরম পূরণ বাবদ কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা ১০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভর্তি কার্যক্রমে অনলাইনে ফরম পূরণের কাজ অনুষদ থেকে করার কোনও নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি কার্যক্রমে ৬০০ টাকা অনুষদ ফি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়েছে।এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলে, কোনও কারণ নেই; এটাই ফি। অথচ অন্য অনুষদে তাদের সহপাঠীদের কাছ থেকে ৬০০ টাকাই নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাইরে অনলাইনে ফরম পূরণ করলে অনেক বেশি ভুল থাকতো ফরমে। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা বেশি টাকা আদায় করতো। এ কারণে আমরা নিজেরাই ১০০ টাকার বিনিময়ে তাদের ফরম পূরণ করে দিতাম। তবে সবার কাছে নেওয়া হতো না। শুধু যাদের ফরম আমরা পূরণ করে দিতাম তাদের কাছ থেকে এই বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সাগরে জীবনরক্ষাকারী যোদ্ধা সার্ফার: তথ্যমন্ত্রী
তবে বিষয়টি ঠিক হয়নি জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এ কাজটি করা অনেক বড় ভুল। তিনি নিজেও এ টাকার ভাগ পেয়েছেন স্বীকার করে মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘ওই টাকা আমরা অনুষদের কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়েছি।’
অনুষদের অন্য এক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে ফরম পূরণ বাবদ বাড়তি টাকা নিয়েছি। এতদিন বিষয়টিকে অনৈতিক মনে না হওয়ায় কাজটি অব্যাহত ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অফিসের ভেতরে টাকার লেনদেন অন্যায় হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদের ডিন অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা বলেন,‘এ বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবহিত ছিলাম না। কয়েকদিন আগে বিষয়টি জেনেছি। তারপর কর্মকর্তাদের ডেকে জানতে চাইলে তারা দোষ স্বীকার করেছেন। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদেরকে ওই টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।’ তবে এ টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত না দিয়ে তা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করার আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। ডিন বলেন,‘এই টাকা দিয়ে একটি ফান্ড খুলবো যা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।’
/টিএন/
আপ:এইচকে







