কুড়িগ্রামে হোসেন আলী (৬৫) নামে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের একমাস পার হলেও তদন্তের দৃশ্যত কোনও অগ্রগতি হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ৫ জনকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহর দাবি, তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু তদন্তের স্বার্থে মিডিয়াকে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি বলতে হত্যাকাণ্ডের পর হত্যার কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ’ থাকার ধারণা থেকে সরে এসেছে পুলিশ।
জঙ্গি সংগঠনই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত এমন আভাস দিয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমির উদ্দিন জানান, পুলিশ নিজেদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
হোসেন আলীর স্ত্রী, ছেলে ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হত্যার কয়েকদিন আগে যে ভাড়াটিয়া তাদের বাসায় থাকতেন তার আচরণ ছিল অনেকটা জঙ্গি সংগঠনের লোকদের মতো। হোসেন আলীর সঙ্গেই অধিকাংশ সময় কাটাতেন তিনি। হোসেন আলীর সঙ্গে কয়েকদিন সকালে হাঁটতেও বের হয়েছিলেন তিনি।
হোসেন আলীর পুত্রবধূ হাফছা পারভীন আঁখি বলেন, ‘আমরা এখন বুঝতে পারছি ওই ভাড়াটিয়া আমার শ্বশুরের হত্যাকারীদের সহযোগী ছিল। আমার স্বামী যখন বাড়িতে থাকতেন তখন সে বাড়িতে আসত না। তবে পুলিশ যেহেতু তদন্ত করছে তারাই বের করবেন আসল হত্যাকারী কারা।’
আরও পড়ুন: ‘প্রশ্ন ফাঁস কিভাবে সামলাবো?’
হত্যার ধরন এবং হত্যাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে হওয়া কয়েকটি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হোসেন আলীর উপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জেলা পুলিশের সঙ্গে পুলিশের অন্যান্য টিম মামলাটি নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত জানাতে পারছি না। আমরা চাই আর কোনও হোসেন আলীকে যেন এমন পরিণতির শিকার হতে না হয়।’
আরও পড়ুন: রহস্য হয়েই আছেন মুস্তাফিজ
প্রসঙ্গত, গত ২২ মার্চ সকালে কুড়িগ্রাম সদরের গাড়িয়াল পাড়া এলাকায় হোসেন আলী (৬৫) নামে একজন ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সকালে মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী তার নিজ বাসার পাশের রাস্তায় হাঁটছিলেন। এসময় একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাকে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
/এমও/এসটি/







