সিরাজগঞ্জ শহরের মাছিমপুরে সন্দেহভাজন ৪ নারী জঙ্গি আটকের পর আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন একই মহল্লায় বসবাসরত চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির দেড় ডজন চীনা নাগরিক। বাসার খুব কাছে ৪ নারী জঙ্গি ধরা পড়ার পর তারা এ পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে বলেছে প্রশাসন। এ অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এরই মধ্যে ভাড়া বাসাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন তারা। শহরের নিরাপদ জায়গায় নতুন করে তাদের জন্য বাসা খোঁজার কাজও শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জে যমুনার পশ্চিম তীরে ক্যাপিটাল ড্রেজিং খনন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ সংস্কারের ঠিকাদারি কাজে গত ৪/৫ বছর ধরে সিরাজগঞ্জে রয়েছেন এসব চীনা নাগরিক। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের মাছিমপুর মহল্লায় এলজিইডি’রপ্রকৌশলী আনসার আলীর ‘অ্যারিয়ান ভিলা’, ব্যাংকার মনোয়ার হোসেনের ‘হাসনা-হেনা কুঞ্জ’ ও ঠিকাদার জিল্লুর রহমানের মালিকাধীন ‘স্বপ্ননীড়’ নামের ৩টি দোতলা বাসা ভাড়া নিয়ে তারা সেখানে বাস করছেন। তাদের আবাসস্থলের অদূরে মাছিমপুর পূর্বপাড়ায় হুকুম আলীর বাড়ি থেকে গত রবিবার ভোরে জিহাদি বই, ৪টি তাজা ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ডিবি পুলিশ ৪ সন্দেহভাজন নারী জেএমবিকে আটক করে।
আগে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করলেও এ ঘটনার পর থেকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে বের হচ্ছেন। পাউবোর কর্মকর্তা, কর্মচারী, চীনাদের নিযুক্ত সাব ঠিকাদার ও তাদের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাতেও বর্তমানে বেশ কড়াকড়ি করা হয়েছে। এমনকি রাতের বেলায় তারা কেউই বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। দিনে পাউবোর ক্রসবার বাঁধের সাইটে প্রকল্প এলাকায় পরিদর্শনে গেলেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
জানা গেছে, ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর এমনিতেই এসব চীনা নাগরিক সতর্ক ছিলেন। তার ওপর গত রবিবার বাসার কাছেই ৪ নারী জঙ্গি আটকের পর তারা নতুন করে নিজেদের ভাড়া বাড়িতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন। শুধু চীনারা নিজেরাই সতর্ক হয়েছেন তা নয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং পাউবোর স্থানীয় কর্মকর্তারাও চীনাদের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ও অসতর্কভাবে চলাফেরার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্প্রতি জেলা আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় চীনাদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার মাছিমপুর দক্ষিণপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গুলশানের ঘটনার পর ৫/৬ জন ছুটি নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন। বাকি ৯/১০ বেশ সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন। বাড়িগুলো পাহারায় স্থানীয় কয়েকজন যুবককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব নিরাপত্তা প্রহরী জানান, গত ২/৩ দিন ধরে এই তিনটি বাসায় যে কারও প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির অধীন সিরাজগঞ্জে প্রকল্প এলাকার ব্যবস্থাপক ইয়ান ঝিয়ং বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান জঙ্গি হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন রয়েছি। গত রবিবার আমাদের মহল্লা থেকে ৪ নারী জেএমবিকে আটকের পর আমি অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে পড়েছি। তারপরেও স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ যে তারা আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন রয়েছেন। এখানে কর্মরত অন্য চীনা নাগরিকদের এরই মধ্যে সতর্ক করেছে প্রশাসন। রাতের বেলায় কেউ যাতে বাইরে না যায় সে ব্যাপারেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিনে প্রকল্প এলাকায় গেলেও নিজেদের গাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তায় চলাফেরা করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া, জেলা প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী খুব শিগগিরই চুক্তিভিত্তিক সশস্ত্র আনসার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, চিঠিপত্র দিয়ে তাদের বার বার সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে তারা যেখানে বাস করছেন, তা শহর থেকে দূরে। শহরে নিরাপদস্থানে বাসা শিফট করারও ব্যাপারে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, চায়নারা যেখানে বসবাস করছেন তা মোটেই নিরাপদ নয়। আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন যদিও তাদের নজরদারির মধ্যে রেখেছে, তারপরেও তাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।
/টিএন/
আরও পড়ুন:
চবি ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ পাঁচজনকে হত্যার হুমকি







