রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক চারজনের তিনজনেক ছেড়ে দেওয়া হলেও লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলাম এখনও আটক রয়েছে। মনিরুলের দেওয়া তথ্য দিয়েই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় , লিপুর রুমমেট মনিরুল দুই দিনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী তার রুমে শুক্রবার রাতে হল থেকে মনিরুলের ল্যাপটপ ও একটি নষ্ট মোবাইল উদ্ধার করা হয়। ওই মোবাইলে একটি সিম আছে। আর ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া লিপুর ডান পায়ের স্যান্ডেল কক্ষের ভেতরে এবং বাম পায়েরটা বাহিরে পাওয়া যায়। আর রুমের সামনে দুই জোড়া নতুন জুতা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, লিপুর সঙ্গে কারও রুমের মধ্যেই ধস্তাধস্তি হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, দুই শয্যার একটা ছোট কক্ষে ধস্তাধস্তি হলে পাশে তার রুমমেট যতই ঘুমিয়ে থাকুক তার জানার কথা। এই জায়গা থেকে মনে হচ্ছে তার রুমমেট এ ঘটনায় সম্পৃক্ত আছে। আর যদি সে হত্যার সঙ্গে যুক্ত না থাকে তাহলে হত্যার সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানতে পারে। হয়তোবা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তথ্য লুকানোর চেষ্টা করেছে কোনও পক্ষ। এ কারণে আমরা তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে, রুমমেটে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে লিপুর ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছে লিপুর বাবা। লিপুর বাবা মো. বদর উদ্দিন বলেন, ‘কারও সঙ্গে লিপুর কোনও দ্বন্দ্ব ছিল কিনা আমার জানা নেই। তবে লিপুর মায়ের কাছে শুনেছি, গত সোমবার লিপু ফোনে কথা বলছিল। এসময় লিপু বলছিল, ‘আমি ক্যাম্পাসে আসছি, তুই যা পারিস করিস’। তখন লিপুর মা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল তুই কার সঙ্গে কথা বলছিলি। তখন লিপু বলে, ‘আমার এক রুমমেটের সঙ্গে’। তবে কোনও রুমমেট তা বলেনি লিপু।
মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ‘লিপুর রুমমেটকে এখনও ছাড়া হয়নি। আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবো। রুমমেট মনিরুলের ল্যাপটপ পুলিশ উদ্ধার করেছে। আমরা সেগুলো তদন্ত করে দেখছি।’
অন্যদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরীক্ষা জালিয়াত চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন লিপুর পরিবার ও সহপাঠিরা।
লিপুর বাবা মো. বদর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ট্রাক চালক। যার কারণে আমি বাসায় থাকি না। কারও সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্ব ছিল কিনা আমার জানা নেই। আমাকে কিছু বলেওনি লিপু। তবে প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ার মামলাটা নিয়ে চিন্তিত থাকতো। তবে লিপুর মা ও চাচা বলছে, প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ার পর থেকে লিপুকে হুমকি দেওয়া হতো।’
সহপাঠিরা জানান, ‘লিপুর পরিবারে আর্থিক অবস্থা ভালো না। এক বছর আগে প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়েছিল। সেখানে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তিন মাস জেল খাটে। কিন্তু ঐ ঘটনায় তার অনুশোচনা হয়। এরকম কাজ সে আর কখনো করবে না বলেও আমাদের জনায়। কিন্তু ওই চক্রের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। তার লাশ পাওয়া গেল বহস্পতিবার (২০ অক্টোবর)। তার পরদিন ২১ অক্টোবর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। আবারও ২৪ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। তাহলে এটা ধারণা করা যায় যে, ওই চক্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ওসি হুমায়ুন কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে সবই আমরা তদন্ত করবো। প্রক্সি চক্রের বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে।’
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নবাব আব্দুল লতিফ হল থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন লিপুর চাচা মো. বশীর।
/এমডিপি/







