বগুড়ার নন্দীগ্রামে সম্মেলনের চার বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তা প্রকাশ করছেন না। দীর্ঘদিন পদ-পদবি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ফলে এ উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবিলম্বে কমিটি ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহেদুর রহমান জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পাওয়া গেছে। নানা ঝামেলায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
নেতাকর্মীরা জানান, গত ২০১২ সালে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে জাহেদুর রহমানকে সভাপতি ও আনিসুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনের পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কিছুদিন আগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর হস্তান্তর করেছেন। এরপরও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অজ্ঞাত কারণে সে কমিটির ঘোষণা দিচ্ছেন না। পরিচয় দেবার মত কোনও পদ-পদবি না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অধিকাংশ নেতাকর্মী রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শুধু ফটোসেশনের মাধ্যমে রাজনীতি করছেন। কেউ কেউ বলছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ও দায়িত্বশীল কেউ কেউ বাদ পড়ায় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় কমিটি ঘোষণা হচ্ছে না।
প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিংকু জানান, কিছুদিন আগে জেলা আওয়ামী লীগ নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এটি প্রকাশ করতে টালবাহানা করছেন। তারা রাজনীতিকে কুক্ষিগত ও নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। নিজের পদ-পদবি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পেরে নেতাকর্মীরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন। এতে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ধস নেমেছে। অবিলম্বে পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণ না করলে নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ক্ষতি হবে। সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি মহসিন আলী জানান, জেলা আওয়ামী লীগ উপজেলা কমিটির অনুমোদন দিলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অজ্ঞাত কারণে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। একই মন্তব্য করেছেন, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান মিন্টু। তিনি বলেন, কমিটির ব্যাপারে নেতাদের প্রশ্ন করলে তারা কোনও সদুত্তোর দিতে পারেন না। কমিটি না থাকায় এ উপজেলায় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শুধু পত্রিকায় ফটোসেশনের মাধ্যমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মাশরাফি হিরো জানান, গত ২০১২ সালে সম্মেলনের পর নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথক কমিটি জমা দেন। পরবর্তীতে দু’জন একত্রে জমা দিয়েছেন। এরপরও সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পদে বাদ পড়া নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছিল। তিনি বলেন, কী কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিচ্ছেন না সে সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। এলাকার ত্যাগী নেতাকর্মীরা সংগঠনের স্বার্থে অবিলম্বে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
/এইচকে/আপ-এআর/







