বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনদের মারধর ও কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় জড়িত চার শিক্ষানবিস চিকিৎসকের শাস্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদেরকে ৬ মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ স্থগিত করা হয়েছে। পরে তাদের চারটি ভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে। তবে স্থানীয়ভাবে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের সময় এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছে।
শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মাসুদ আহসান জানান, শাস্তির বিষয়টি শুনলেও এ সংক্রান্ত কোনও চিঠি পাননি তিনি।
শাস্তিপ্রাপ্ত ইন্টার্নরা হলেন- ডা. নূরজাহান বিনতে ইসলাম নাজ, ডা. আশিকুজ্জামান আসিফ, ডা. কুতুব উদ্দিন ও ডা. এমএ আল মামুন। এদের মধ্যে ডা. নাজকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ডা. আসিফকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ডা. কুতুব উদ্দিনকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং ছাত্রলীগ সভাপতি ডা. মামুনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের কোনাগাতি গ্রামের আলাউদ্দিন সরকার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। বেড না পাওয়ায় মেডিসিন বিভাগের ৪৭৫ নম্বর রুমের মেঝেতে ছিলেন তিনি। এ সময় মাথার ওপর ফ্যান চলায় তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন তার ছেলে আব্দুর রউফ ও কর্তব্যরত ইন্টার্ন ডাক্তারের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এর একপর্যায়ে আব্দুর রউফকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কয়েকদফা মারধর করেন।পরে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে ১০০ বার কান ধরে উঠবস করানো হয়।
এ সময় রউফের বোন বিনা ও সেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করার কথা বললে ইন্টার্নরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও হাসপাতালের পরিচালক ও পুলিশের সামনে আব্দুর রউফ ও তার বোনদের মারধর করেন। এ ঘটনা দেখে রোগী আলাউদ্দিন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তিনি সেখানে মারা যান।
এরপর ইন্টার্নরা ওইদিন দুপুর থেকে পরদিন বিকাল পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করলে হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যান। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের অপর একটি কমিটি গঠন হয়। এ কমিটি ২৫ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন তদন্ত করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ কমিটি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উল্লিখিত চার ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীকে রিপোর্ট দেন। এ রিপোর্টের আলোকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) তাদের ইন্টার্নশিপ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। শাস্তি শেষে তাদের চারটি ভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।
শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম মাসুদ আহসান ও উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, তারা অনলাইন পত্রিকা এবং লোকমুখে চার ইন্টার্নদের শাস্তির কথা শুনেছেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ পাননি।
স্থানীয় তদন্ত কমিটির প্রধান হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, তিনিও এমন খবর পত্রিকায় দেখেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেননি। তাই সাতদিন সময় বৃদ্ধি করে নিয়েছেন।
/এআর/







