তুফানের গাড়িতে করেই পালিয়ে যায় আশা, রুমকিসহ পাঁচজন

বগুড়া প্রতিনিধি
০১ আগস্ট ২০১৭, ১১:৪০আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:২৩

এই গাড়িতে করে পালিয়ে যায় রুমকিসহ ৫ জন

বগুড়ায় এক ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাতে বাসা থেকে পালিয়ে যান কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি, তার মা ও বোনসহ ৫ জন। 'ধর্ষক' তুফান সরকারের গাড়িতে করেই তারা পাবনার মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তিনজন যায় সাভারে। পরে পুলিশ রবিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পাবনা ও সাভারে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্বদানকারী বগুড়া ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার ছাত্রী ও তার মাকে শহরের চকসুত্রাপুরের বাড়িতে ধরে এনে রুমকি ও অন্যরা নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে প্রতিবেশীরা ওই ছাত্রী ও তার মাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ওইদিনই পুলিশ তুফান সরকার ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে। অবস্থা বেগতিক দেখে রুমকিসহ বাকিরা পালনোর সিদ্ধান্ত নেন।’

তুফানের স্ত্রী আশা খাতুন, আশার বোন কাউন্সিলর রুমকি ও তাদের মা রুমা খাতুন

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার রাতেই তুফানের গাড়িতে করে রুমকি তার বোন ও তুফানের স্ত্রী আশা, তার বাচ্চা, মা রুমা ও মুন্নাকে নিয়ে পাবনার দিকে রওনা হন। গাড়িচালক ছিল জিতু। তারা পাবনা মেডিক্যাল কলেজের কাছে দুঃসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। শনিবার (২৯ জুলাই) সকালে টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকায় ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতনের খবর প্রচার হলে তুফানের স্ত্রী আশা ভয় পেয়ে যায়। রবিবার তিনি ছেলের খাবার কেনার নামে স্বামীর সহযোগী মুন্না ও গাড়িচালক জিতুকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দেয়। যানজটের কারণে সাভারে পৌঁছাতে রাত ১১টা বেজে যায়। বগুড়া পুলিশ টের পেয়ে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় তাদের রিসিভ করতে অপেক্ষায় থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করে। সেখানে আশা, মুন্না ও জিতু পৌঁছালে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। এছাড়া বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রবিবার সন্ধ্যায় পাবনা শহর থেকে কাউন্সিলর রুমকি ও তার  মা রুমা খাতুনকে গ্রেফতার করে।’

তুফানের গাড়িতে করেই পালিয়ে যায় আশা, রুমকিসহ পাঁচজন

প্রসঙ্গত, ১৭ জুলাই কলেজে ভর্তির বিষয়ে সাহায্যের নাম করে বগুড়া শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান ভিকটিমকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগিতায় ভিকটিমটিকেই এ ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং বিচারের নামে ভিকটিম ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর তুফান মা ও মেয়েকে এসিড মারার হুমকিও দেয়। শুক্রবার দুপুরে ভিকটিম ও তার মায়ের চুল কেটে দিলে তারা থানায় মামলা করেন। ওইদিন রাতেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 /এআর/এসটি

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের