বগুড়ায় বাঙালি নদী তীরবর্তী ৬টি উপজেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যায় প্রায় ৩৬ হাজার ৩৭৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে কৃষকের প্রায় ৪৫৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে ও বর্ষায় দুই দফা বন্যায় সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের পুনর্বাসনে কৃষি বিভাগ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগস্টে দ্বিতীয় দফা বন্যায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে শুধু বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিল। তখন মাঠে ফসল না থাকায় ক্ষতি হয়নি। যমুনার পানি কমতে শুরু হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিমে বাঙালি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাঙালি নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় দুকূল উপচে পানি সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সোনাতলা, শেরপুর, ধুনট ও শাজাহানপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার জমিতে থাকা রোপা আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় পানি থাকায় ফসলে পচন ধরে।
বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় কয়েকটি উপজেলায় ৩৬ হাজার ৩৭৯ হেক্টর জমিতে থাকা রোপা-আমন, আউশ, শাক-সবজি, আমন বীজতলা ও কলাক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষকের অন্তত ৪৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে মন্ত্রণালয়ে ১০ কোটি ৮১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ফসল গম, সরিষা, ভুট্টা, বোরো ধান, আলু, চিনাবাদাম চাষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ হাজার কৃষককে সাহায্য করা হবে। এসব সহযোগিতার মধ্যে সার ও বীজ থাকবে।
সারিয়াকান্দির ভেলাবাড়ি গ্রামের আকরাম হোসেন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় দফা বন্যায় ক্ষেতে বাঙালি নদীর পানি ঢুকে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয় গেছে।’
কুতুবপুর গ্রামের আহসান হাবিব জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ধানগাছগুলো পঁচে গেছে। ধুনটের চাপড়া গ্রামের আব্বাস আলী জানান, তার ৫ বিঘা জমির রোপা আমন সম্পুর্ণ পানিতে ডুবে যাওয়ায় পঁচে গেছে। এখন তার রোপা আমন চাষ করতে চারা প্রয়োজন। চারার সংকট দেখা দেওয়ায় চাষাবাদ করতে পারছেন না। অল্প কিছু চারা পেলেও মূল্য চড়া।
শেরপুরের শালফা গ্রামের ইউনুস আলী মন্ডল বলেন, ‘বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় আমার তিন বিঘা জমির ধান গাছ সম্পুর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর আগেও বাঙালি নদীতে পানি বেড়েছে। তবে তখন আমার জমির ফসলের কোনও ক্ষতি হয়নি। এখন সামনে কিভাবে ফসল চাষের খরচ জোগাড় করবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
ইউনুস আলী ও তার মতো অন্যান্য কৃষকদের দাবি, যমুনার মতো বাঙালি নদীতেও জরুরিভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা দরকার। তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল বন্যার পানিতে নষ্ট হবে না।
আরও পড়ুন- ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বগুড়ার চাষিরা, আমন চারার দাম চড়া







