ইসলামি জলসাকে কেন্দ্র করে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮ জনের মধ্যে শাহিন (২৫) নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে হওয়া সংঘর্ষে শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই তরুণ মারা যান। আত্রাই থানার ওসি মোবারক হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহিনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শাহিন নওদাপাড়া গ্রামের আলাবক্স ছেলে। আহত বাকি ৬ জন হলেন– নওদাপাড়া গ্রামের আলাবক্স (৪২), কাদিরের ছেলে জাভেদ (৩২), সুরুজ আলীর ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক (২৪), নজিবর মণ্ডলের ছেলে আবুল মণ্ডল (৪৫), আবুলের ছেলে শান্ত (১৬), আমজাদের ছেলে জাহিদুল (৩২)। আহত আরও একজনের নাম পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওদাপাড়া গ্রামে নওদাপাড়া হামিদিয়া নুরানি হাফেজিয়া মহিলা মাদ্রাসার নতুন ও পুরাতন কমিটির মধ্যে রেষারেষি ছিল। গত শুক্রবার মাদ্রাসায় জালসা অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নতুন কমিটি। এর বিরোধিতায় করে পুরনো কমিটির কিছু লোক জলসা মঞ্চের ডেকোরেশন নষ্ট করার পাশাপাশি কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় নতুন কমিটির লোকজন বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সংঘর্ষে আট জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শাহিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে শাহিন মারা যান। শাহিনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নওদাপাড়া গ্রামে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।
ওসি মোবারক হোসেন বলেন,‘শাহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আবুল মণ্ডল নামের একজনের স্ত্রী রওশন আরাকে (৩৭) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এছাড়া, তিন জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আত্রাই থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
আরও পড়ুন: নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার







