বগুড়ার কাহালুতে নির্বাচনি সহিংসতায় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারপিটে গুরুতর আহত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা ডুয়েল (৩৮) মারা গেছেন। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। এর আগে দুপুরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টরে ঢাকায় নেওয়া হয়। কাহালুর পাইকড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই হামলায় ঘটনাস্থলেই যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান (২৮) মারা যান। নিহত আজিজুরের ভাই জাহিদুর রহমান কাহালু থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ জামায়াত-বিএনপির ১৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার দিকে বাগইল কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর বাগইল গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে পাইকড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ সভাপতি নাজমুল হুদা ডুয়েল ও একই দলের মাহবুবর রহমান কেন্দ্রের কাছে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্ক বাধে। একপর্যায়ে আজিজুর, ডুয়েল ও মাহবুবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত তিনজনকে কাহালু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক আজিজুরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুজনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কাহালুর পাইকড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু চৌধুরী জানান, ডুয়েলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি সেখানে মারা যান। মিঠু চৌধুরী আরও জানান, ময়নাতদন্ত ও সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ডুয়েলের লাশ বগুড়ার কাহালুর বাগইল গ্রামের বাড়িতে আনা হবে।
আজিজুর ও ডুয়েল খুনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির জানান, ডুয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে এজাহার করতে হবে না। ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত তিন বিএনপি নেতাকর্মী বাগইল দক্ষিণপাড়ার মকবুল হোসেন, বেঞ্জার রহমান ও মিনহাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।






