বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান গড়ে সরকারি অর্থায়নে খনন কাজ চলছে। খননের পর ৬ষ্ঠ থেকে একাদশ শতাব্দি পর্যন্ত বিভিন্ন শাসকের স্থাপত্য নির্মাণের অবকাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এ খনন কাজ চলবে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত। খনন থেকে পাওয়া বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে গুপ্ত আমলের থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুগের মিল রয়েছে বলে জানান খননকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
বগুড়ার মহাস্থানগড় যাদুঘর ও মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের অবস্থান। নব্বই দশক থেকে মহাস্থানগড়ে বিভিন্ন সময় খনন কাজ চলছে। তবে এ খনন কাজ চলছে থেমে থেমে। মহাস্থানগড়ে লইয়ের কুড়ি ভিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে এবং মহাস্থান জাদুঘর থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বৈরাগীর ভিটা। এই ভিটায় নিজস্ব অর্থায়নে তৃতীয় দফায় শুরু হয়েছে খনন কাজ। এই ভিটায় ৮ সদস্যের প্রত্নতত্ত্ব গবেষকগণ গত ফেরুয়ারির প্রথম থেকে খনন কাজ শুরু করেন। চলতি মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ খনন কাজ চলবে। এই খননে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন।
খননকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলেন, খননকালে বেশ কিছু পোড়া মাটির ফলক, পাত্র ও কিছু ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে যে নিদর্শন পাওয়া গেছে, তা ৬ষ্ঠ থেকে একাদশ শতাব্দির বলে ধারণা করা হচ্ছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্নতত্ব নিদর্শন। এই নিদর্শন বা প্রাচীন অবকাঠামোগুলো বিভিন্ন শাসনামলে নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে গুপ্ত আমল থেকে শুরু করে একাদশ শতাব্দি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের নির্মাণ শৈলীর সঙ্গে মিল রয়েছে। এবার খননে বেরিয়ে আসা নির্দশনগুলোর সঙ্গে মন্দিরের মিল রয়েছে বলে জানান প্রত্নতত্ব গবেষকরা।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা আরও জানান, এ পর্যন্ত যে সব প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। বগুড়ার মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটায় খননে পাওয়া গেছে বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন। তবে অনুমান করে পূর্বের খনন থেকে বলা যায় গুপ্ত আমল থেকে বিভিন্ন যুগের মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, তৈজসপাত্র, পোড়া মাটির বাটি ও পোড়া মাটির গুটিকা পাওয়া গেছে। যে অবকাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে সেগুলোর সঙ্গে গুপ্ত আমলের মিল রয়েছে। সরকারি অর্থায়নে এ খনন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ৬ষ্ঠ শতাব্দি থেকে একাদশ শতাব্দি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এই অবকাঠামোগুলো নির্মাণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







