১০ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধই সুরক্ষিত বলে জানিয়েছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে দাবি সংস্থাটির। তাদের দাবি, রাজশাহীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা পরিমাণে খুবই কম।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ মিটার রিডার এনামুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার বিকাল-বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত) রাজশাহী পয়েন্টে মাত্র এক সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পয়েন্টে কোনও পানি বৃদ্ধি পায়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৯ মিটার। যা বিপদসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৮ মিটার।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, মোট ১৭ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু টি-বাঁধ ও শ্রীরামপুরে পুলিশ লাইনের সামনে অংশ শহর রক্ষা বাঁধে পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, যেন স্থানটি দেবে না যায়। কারণ এই টি-গ্রোয়েন ও পুলিশ লাইনের সামনের অংশটি পুরনো নকশায় নির্মিত। নতুনভাবে নকশা করা হয়েছে। বন্যা শেষে নতুনভাবে টি-গ্রোয়েন ও পুলিশ লাইনের সামনের অংশের বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তবে, এতে নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধির কারণে রাজশাহীর শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহরের টি-বাঁধ, শ্রীরামপুর ও বুলনপুরে শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টি-বাঁধ ও শ্রীরামপুরের পুলিশ লাইনের বাঁধ কিছুটা দেবে গেছে। সেসব স্থানে কয়েক হাজার জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধগুলো সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় মেয়রের সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। পরিদর্শনকালে মেয়র পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ ও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে আলাপ করেন।
অন্যদিকে নগরীর রিভার ভিউ হাই স্কুল মাঠে রাসিক এলাকার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মেয়র নগরীর নদীর তীরবর্তী এলাকার ২৮৫টি পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।







