দিনাজপুরের হিলিতে ছুরিকাঘাতে মেহেদি হাসান সনি (২৫) নামের এক তরুণ খুন হয়েছেন। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন চাকরির জন্য দেওয়া পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি খুন হন। মেহেদি বোয়ালদাড় গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
মেহেদির খালু জিয়া ও মামা মিজান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মেহেদি চাকরির জন্য তিন বছর আগে একই গ্রামের মৃত জাফিল আকন্দের ছেলে মিজানুর রহমানকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। চাকরি না হওয়ায় মিজানুরের কাছ থেকে টাকা ফেরত চান। পরে মিজানুর রাজধানী ঢাকাতে চলে যান। এরমাঝে একবার তিনি বাড়িতে এলে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ তাকে আটক করা হয়। সেমসয় টাকা ফেরত দিতে তিনি দুই মাস সময় নেন। সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি টাকা ফেরত দেননি। বুধবার মিজানুর রহমান বাড়িতে এলে তার কাছে টাকা ফেরত চান মেহেদী। এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে মিজানুরের সঙ্গে থাকা তার ভাগ্নে দেলোয়ার হোসেন মেহেদী হাসানকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার গাদ্দাফি শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার কপালে ও বুকে দুটি আঘাত ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করেছিলাম। পথে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে আমরা পুলিশকে অবহিত করেছি।’
বোয়ালদাড় ইউপি চেয়ারম্যান মেফতাহুল জান্নাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুপুরে কি একটা বিষয় নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সেই মারামারিতে দেলোয়ার নামের এক ছেলে মেহেদি হাসানকে ছুরি মারলে সে মারা যায়। এই পর্যন্ত শুনেছি, তবে আমি ঘটনাস্থলে যাইনি।’
হাকিমপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা ঘটনাটি জেনেছি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সেইসঙ্গে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগ ওঠা দেলোয়ার হোসেন নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বোয়ালদাড় গ্রামের মিজানুর রহমানের ভাগিনা।








