অপহরণের নাটক করে মায়ের থেকে টাকা আদায়ের ফন্দি করেছিল বগুড়ার আদমদীঘির সামিউল ইসলাম (১৯)। অপহরণের নাটক করতে সাহায্য নেয় এক বন্ধুর। সামিউলের পরিকল্পনা ছিল অপহরণের নাটক করে বন্ধুর মাধ্যমে সে মায়ের কাছ দুই লাখ টাকা আদায় করবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশ শনিবার (২১ মার্চ) মধ্য রাতে তাকে বগুড়া শহরের রানার প্লাজা থেকে উদ্ধার করে। পরিবার থেকে কেউ মামলা করতে রাজি না হওয়ায় রবিবার (২২ মার্চ) পুলিশ তাকে মায়ের কাছে সোপর্দ করে।
আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, সামিউল আদমদীঘির তিলছ সিতাহার গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবদুল লতিফের একমাত্র সন্তান। সে বগুড়া ওয়াইএমসিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় একটি ছাত্রাবাসে থেকে পড়লেখা করে। বাবা-মা চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় সে কৌশলে মায়ের কাছে কিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়া পরিকল্পনা করে। এজন্য বন্ধু আল আমিনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে ১৮ মার্চ রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সে। মা বিজলী বেগম ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ১৯ মার্চ তার মাকে ফোনে জানানো হয় সামিউলকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে পেতে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিজলি বেগম বিষয়টি আদমদীঘি থানায় জানায়। প্রথমে টাকা নিয়ে দুপচাঁচিয়া ও পরে বগুড়া শহরে আসতে বলা হয়। আদমদীঘি থানা পুলিশ এ ব্যাপারে বগুড়া ডিবি পুলিশের সহায়তা চায়। শনিবার রাত ১২টার দিকে বিজলি বেগম টাকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে শহরের রানা প্লাজায় আসেন। পুলিশ সামিউলকে দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে আদমদীঘি থানায় নিয়ে আসে।
জিজ্ঞাসাবাদে সামিউল জানায়, বাবা-মা তার চাহিদামতো টাকা দিত না। তাই সে বন্ধু আল আমিনের সহযোগিতায় টাকা আদায় করতে এ অপহরণ নাটক করে।







