রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সৈয়দপুর চকপাড়া আহমেদিয়া জামে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহত বোমা বহনকারীর মরদেহ অবশেষে বেওয়ারিশ হিসেবেই দাফন করা হয়েছে। তিনদিনেও তার নাম পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
রবিবার বাদ জোহর রাজশাহীর হেতম খাঁ কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে হেতম খাঁ কবরস্থান মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীর বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে লাশটি হস্তান্তর করেন। ময়নাতদন্তের পর লাশটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ছিল।
পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় রবিবার দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ দাফনের জন্য রাজশাহীর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান, ফাউন্ডেশনের সংগঠক এনায়েত কবীর মিলন। তিনি জানান, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের খরচে নিহতের কাফন ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে শনিবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। ময়নাতদন্তের পর মসজিদে হামলাকারী যুবকই বোমা বহনকারী বলে নিশ্চিত হন চিকিৎসক।
শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে মুখ খুলতে চাচ্ছে না পুলিশ। তবে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তাসহ বিভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সৈয়দপুর চকপাড়া আহমেদিয়া জামে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় আত্মঘাতী যুবক নিজেই নিহত হন। এ সময় আরও ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
/আরএ/টিএন/আপ-এনএস/







