ঢাকায় উবারে প্রাইভেটকার নিয়ে ভাড়ায় চালানোর পাশাপাশি অফিস ছুটির প্রতি বৃহস্পতিবারে পরিকল্পিতভাবে যাত্রী নিয়ে টাকা-দ্রব্য ছিনতাই করতো তারা। এরপর হাত, মুখ বাঁধা অবস্থায় ওই যাত্রীকে ফেলে দিতো রাস্তার পাশে। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হল না। এমন ঘটনার পর এক প্রকৌশলীর দায়ের করা মামলার অভিযানে ওই কারসহ গ্রেফতার হয়েছেন চক্রটির ৩ সদস্য।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে তার কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের একজন ইতোমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবিন্দ দিয়েছে।
আসামিরা হলো দিনাজপুর জেলার বিরামপুর দিকশোঁও এলাকার হাবিবুরের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪০), একই জেলার বীরগঞ্জ ডাকেশ্বরী এলাকার জহিরুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৪২) ও চাঁদপুর জেলার হাইমচর বগুলাপাড়া উত্তরপাড়ার আজিজুলের ছেলে বাদশা মিয়া দেওয়ান (৪৮)। ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম ও মামলার আইও এসআই সামসুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা ও মামলার আইও এসআই সামসুল ইসলাম জানান,আসামিরা সকলেই উবার চালক। তারা বৃহস্পতিবার অফিস ছুটির দিনে যাত্রী নিয়ে একজন গাড়ি চালাতো, একজন তার পাশে ও অপর দুই জন পেছনে বসতো। যাত্রী গাড়িতে নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে হাত, পা বেঁধে সব কিছু ছিনতাই শেষে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়াই ছিল তাদের কাজ।
মামলার বরাতে তারা আরও বলেন, জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খাঁকড়াদহ এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এফএম জাহিদুল ইসলাম ১৭ সেপ্টেম্বর বিকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া আসার জন্য পাবনার দাশুড়িয়া থেকে ওই উবার কারটি ভাড়া করেন। চালক ছাড়া অন্যদের তিনি যাত্রী মনে করে গাড়িতে ওঠেন
মামলায় জাহিদুল অভিযোগ করেন, সাদা রঙের ওই কারটি বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুর পৌঁছা মাত্র চালক ছাড়া বাকি ৩ জন তার হাত, চোখ বেঁধে ফেলে। এ সময় তারা জাহিদুলের মানিব্যাগের ২০ হাজার টাকা এবং তার মোবাইল ফোন ও এটিএম কার্ড নিয়ে নেয়। প্রায় ৩০ মিনিট পর আসামিরা তার এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড জানতে চায়। না বললে তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তিনি তাদেরকে ভুল পাসওয়ার্ড বললে একজন বনপাড়া বাজারে টাকা তুলতে যায়। কিন্তু পাসওয়ার্ড ভুল হওয়ার কথা চালককে মেবাইলে জানানোর পর গাড়িতে থাকা আসামিরা তার চোখে কিল, ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সঠিক পাসওয়ার্ড বললে তারা তার অ্যাকাউন্ট থেকে ২৯ হাজার টাকা তোলে। এরপর তার কাছে আরও ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। অনেক কাকুতি-মিনতির পর অবশেষে পরিচিত এক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে নিজ মোবাইল নম্বরে ২০ হাজার টাকা নেন তিনি। নাটোর শহরের এক দোকান থেকে ওই টাকা তোলার পর রাত ৮ টার দিকে আসামিরা তাকে হাত, মুখ বাঁধা অবস্থায় বনপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে ফেলে যায়। এরপর তিনি অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আইও সামসুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়েরের পর এসপি লিটন কুমারের নির্দেশে মাঠে নামে বড়াইগ্রাম পুলিশ। বড়াইগ্রাম, পাবনা, ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে অভিযানের পাশাপাশি এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২ নভেম্বর ঢাকা থেকে শরিফুলকে, সাভার থেকে বাদশা ও ৩ নভেম্বর গুলিস্থান থেকে উবারসহ আরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়। আরিফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়ে এসপি লিটন কুমার সাহা বলেন, অপর আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








