নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি হওয়ার ৮ দিন পর শিশু তাইবা মায়ের কোলে ফিরেছে। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাজারের কালিকাপুর এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে চুরির অভিযোগে শাকিলা নামে এক নারীকে আটক করা হয়।
পুলিশ বলছে, সম্প্রতি নিজ গর্ভের একই বয়সী শিশুকে দত্তক দেয় শাকিলা। নিজের শিশুকে ফিরিয়ে আনতে চাপ দেয় তার স্বামী বড়াউগ্রাম উপজেলার তিড়াইল গ্রামের ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম। এতে তিনি বেকায়দায় পড়েন। নিজের দত্তক দেওয়া সন্তানকে ফিরে পান না কিছুতেই। পরে স্বামীকে বুঝ দিতে অন্যের শিশু তাইবাকে চুরি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গুরুদাসপুর থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। এ সময় গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ও মামলার আইও এসআই আকরাম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার ও মামলার আইও আকরাম জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে দুই মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে নিজের চিকিৎসার জন্য গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান সীমা খাতুন। এ সময় শিশুটিকে কোলে নিয়ে সীমাকে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন শাকিলা। সীমা ডাক্তারের কাছে গেলে শিশুটিকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও হন শাকিলা। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তফিজ মোল্লা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুপারের (এসপি) নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বড়াইগ্রাম সার্কেল ও সহকারী পুলিশ সুপার সিংড়া সার্কেলের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, ডিএসবি ও ডিবির সমন্বয়ে ৮টি টিম মাঠে নামে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে পাবনা, নাটোরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শেষে শিশুটি উদ্ধার করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘আগের পক্ষের এক কন্যাসন্তানসহ শাকিলার ট্রাকচালক সাইফুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর আবারও এক কন্যাসন্তানের মা হন তিনি। স্বামী ছাড়াই তিনি বনপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামী খরচের টাকা না পাঠানোয় নিজ শিশুকে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকার এক এনজিওকর্মীর স্ত্রীকে দত্তক দেন শাকিলা। এরপর থেকেই শিশুকে ফিরিয়ে আনতে স্বামীর চাপে পড়লেও দত্তক দেওয়া শিশুকে তিনি ফিরে পাননি। অবশেষে স্বামীকে বুঝ দিতে তাইবাকে চুরি করেন তিনি।
গ্রেফতার শাকিলাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মামলার আইও আকরাম।
আরও পড়ুন...
হাসপাতালে চুরি যাওয়া শিশুর খোঁজ মেলেনি রাতেও








