বগুড়ায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে মৃত্যুর ঘটনায় শহরের শিববাটি এলাকার মনোয়ার হোসেন সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনটি হোমিও হলের মালিকের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন। তবে মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দোকানগুলো বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারিরা পালিয়ে গেছেন।
এদিকে বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় সকালে হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এক পরিবারের তিন জনসহ সাত জন মারা গেছেন। মদপানে আরও তিন জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও চিকিৎসক ও স্বজনরা বলছেন, তারা হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। সাত জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও প্রায় তিন জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মদপানে মৃতরা হলেন বগুড়া শহরের পুরান বগুড়া এলাকার প্রেমনাথ রবিদাস (৭০) ও তার ছেলে সুমন রবিদাস (৩৮) এবং ভাই রামনাথ রবিদাস (৬৮), শহরের কাটনারপাড়া হটুমিয়া লেনের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে কুলি শ্রমিক সাজু প্রামানিক (৫৫), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার আবদুল জলিলের ছেলে কারখানা শ্রমিক পলাশ মিয়া (৩৫), ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে রিকশাচালক আবদুল জলিল (৬৫) ও ফাঁপোড় এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে রিকশাচালক জুলফিকার রহমান ফকু (৫৫)।
এছাড়া পুরান বগুড়া এলাকার বাবুর্চি মোজাহার আলী (৬৫), রাজমিস্ত্রি রমজান আলী (৪০) ও নিশিন্দারা ধমকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের (৫০) মদপানে মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও চিকিৎসক ও পুলিশ বলছেন, তারা হৃদরোগে মারা গেছেন।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, বিষাক্ত মদ পানে অসুস্থ রামনাথ রবিদাস মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ সাত জনের মৃত্যু হলো। তাদের লাশ উদ্ধার করে একই হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। মোজাহার আলী, রমজান আলী ও আলমগীর হোসেন মদপানে মারা যাবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু চিকিৎসক তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর সনদ দিয়েছেন। বিয়ে উপলক্ষে ও নিয়মিত মাদকসেবী হিসেবে মৃত ও অসুস্থরা শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও হল ও পুনম হোমিও হল এবং শহরের তিনমাথা এলাকার খান হোমিও হল থেকে বিষাক্ত অ্যালকোহল কিনে পান করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মদপানে অসুস্থ শহরের শিববাটি এলাকার হোটেল শ্রমিক রঞ্জু মিয়ার ভাই মনোয়ার হোসেন সোমবার রাতে সদর থানায় শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও হলের মালিক নুর আলম শেখ ও তার ভাই পুনম হোমিও হলের মালিক নুরুন্নবী শেখ এবং তিনমাথা এলাকার খান হোমিও হলের মালিক শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (দণ্ডবিধির ৩০৪-ক/৩৪) করেছেন। আসামিরা দোকান ও ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, নুর আলম, নুরুন্নবী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এর আগেও হোমিও ওষুধ বিক্রির নামে মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। কয়েক বছর আগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এদের গ্রেফতার করার পর কোমড়ে রশি বেঁধে পুরো শহর ঘুরিয়েছিলেন।








