রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় চার দিনে ৪০ হাজার ৪৮৪ জনকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চতুর্থ দিনে বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নিয়েছেন ১৭ হাজার ৯৭১ জন।
সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ১২ হাজার ৬৮৭ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ৮৮৪ জন নারী টিকা গ্রহণ করেছেন। রাজশাহী জেলায় নিয়েছেন ৩ হাজার ৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১০৩ ও নারী ৯৩৯ জন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়েছেন ২ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৪৬৬ ও নারী ৬৫১। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নিয়েছেন ৮৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৭৬ ও নারী ১৮৩ জন। নাটোর জেলায় ২ হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৪৩৯ ও নারী ৫৯৮ জন। নওগাঁ জেলায় ৩ হাজার ৪১৮। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৪৪৩ ও নারী ৯৭৫ জন। পাবনা জেলায় এক হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ১৯৭ ও নারী ৫৭৬ জন। সিরাজগঞ্জ জেলায় এক হাজার ৫১২। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ১৬৬ ও নারী ৩৪৬ জন। বগুড়া জেলায় এক হাজার ৯৮৮। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৩৬৪ ও নারী ৬২৪ জন। জয়পুরহাট জেলায় এক হাজার ২১৫। এর মধ্যে পুরুষ ৮২৩ ও নারী ৯৯২ জন।
রাজশাহী বিভাগে প্রথম দিনে (রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি) ৩ হাজার ৭৫৭ এবং দ্বিতীয় দিনে (সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি) ৫ হাজার ৬৪২ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। আর তৃতীয় দিনে (মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি) ১৩ হাজার ১১৪ জনকে দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ দিনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক টিকা নিয়েছেন। বেলা ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্রে তিনি টিকা নেন। এছাড়া সেখানে আরএমপির অন্য কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যরা টিকা নেন। এর আগে সেখানে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আরএমপি কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। করোনা থেকে বাঁচতে তিনি নির্ভয়ে টিকা গ্রহণের জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) সুজায়েত ইসলাম, উপপুলিশ কমিশনার (সদর) রশীদুল হাসানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার পুলিশ হাসপাতালে ২২৫ জনকে টিকা দেওয়ার কথা ছিল। দুপুরের মধ্যেই সেখানে ১৮০ জন টিকা গ্রহণ করেন।
রামেক হাসপাতাল কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায় ছিলেন রাজশাহী সিটি রেডক্রিসেন্টের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল মুরশিদ। তার দায়িত্ব ছিল যারা টিকা প্রদান করেছেন তাদের ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী টিকা নেওয়ার পর সবাইকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে আমিসহ কয়েকজন ভলান্টিয়ার রয়েছেন যারা টিকা গ্রহণকারীদের ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিশ্চিতে কাজ করছেন।
রামেক হাসপাতাল কেন্দ্রের ৩ নম্বর (পুরুষ) বুথের টিকা প্রদানের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার টিকা প্রয়োগের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণের আলোকে স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম-কানুন মেনে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় বিশ্রামে থেকে তারা চলে গেছেন। কারও কোনও ধরনের সমস্যা হয়নি।’
ওই কেন্দ্রের দুই নম্বর বুথে টিকা প্রদানের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. আজাদুজ্জামান বলেন, ‘করোনার এই টিকার নাম কভিশেল্ড। এই শিশির মধ্যে ৫ এমএল ভ্যাকসিন রয়েছে। প্রত্যেককে ০.৫ এমএল করে হাতের মাংশপেশির গভীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী একটি শিশির ভ্যাকসিন মোট ১০ জনের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কারও কোনও সমস্যা দেখা যায়নি।’
রামেক হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মাহফুজুর রহমান রুবেল বলেন, ‘বুধবার যারা এই কেন্দ্রে টিকা দিতে আসেন। সবার মধ্যে আমি সবচেয়ে ছোট। বুধবার দুপুর ১২টায় ২৯ বছর বয়সে টিকা দিলাম। টিকা দেওয়ার পরপরই সন্ধ্যা পর্যন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। কোনও অসুবিধা হয়নি।’









