বগুড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ বেড়েই চলেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমস্যা বাড়ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম ও বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতিন। এই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিন হামলা,-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ উঠেছে রবিবার (৩১ অক্টোবর) দুই দফা হামলায় মতিন পক্ষের চার জন আহত হন। একজনের হাত-পায়ের রগ কেটে নদে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এ ঘটনায় মহিদুল স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিনকে উল্টো দায়ী করেছেন। পুলিশের শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি তানভীর হাসান, থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ফোন না ধরায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহিদুল ইসলাম (নৌকা) ও মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) বিহার ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতিনের মধ্যে। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাঙচুর অব্যাহত রয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতিন বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলামের নির্দেশে তার লোকজন প্রতিনিয়ত আমার কর্মীদের ওপর হামলা করছে। রবিবার দুই দফা ছুরিকাঘাতে আমার চার কর্মী আহত হয়েছেন। কর্মীদের সাতটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যানকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় আমার কর্মী রবিউল ইসলামের হাত-পায়ের রগ কেটে তাকে হত্যার জন্য নাগর নদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
মতিন আরও অভিযোগ করেন, শিবগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটলেও তারা নিরব থেকেছে।
তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহী প্রার্থী মতিন ও তার লোকজন আমার কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে। পোস্টার ছিড়ে ফেলা ও লাগাতে বাধা দিচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।









