বাস ধর্মঘটের কারণে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচলরত লঞ্চগুলোর ওপর যাত্রীদের চাপ বেড়েছিল। এ জন্য আগেভাগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল পাঁচটি লঞ্চের কেবিন ও সোফা। এরই মধ্যে যাত্রীদের টাকা ফেরত দিয়েছে কাউন্টারগুলো।
শনিবার (০৬ নভেম্বর) রাতে বরিশাল থেকে পাঁচটি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর আড়াইটা থেকে কেবিনের টাকা ফেরত নিতে যাত্রীদের মোবাইল নম্বরে কল দেন লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজাররা।
সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, বাস ধর্মঘটের কারণে লঞ্চের কেবিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ায় আগেভাগেই সব কেবিন বিক্রি হয়ে গেছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত সদর রোডের সুন্দরবনের কাউন্টার থেকে সব কেবিনের টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু দুপুর আড়াইটার দিকে লঞ্চ কোম্পানির চেয়ারম্যান মোবাইল করে জানিয়েছেন, আজ রাতে বরিশাল থেকে ঢাকায় লঞ্চ ছেড়ে যাবে না। তবে ধর্মঘট কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি জানিয়েছেন ভাড়ার বিষয়ে সরকার থেকে কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। কেবিনের টাকা ফেরত দিতে বলেছেন। তার নির্দেশে কেবিনের টাকা ফেরত দিচ্ছি আমরা।
লঞ্চযাত্রী আলী নেওয়াজ খান রানা বলেন, সকাল থেকে দৌড়াদৌড়ি করে দুপুর দেড়টায় অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের সিঙ্গেল কেবিন সংগ্রহ করেছি। কেবিন সংগ্রহের এক ঘণ্টা পর কাউন্টার থেকে মোবাইল করে টাকা ফেরত নিতে বলেছেন। তারা বলেছেন, আজ রাতে বরিশাল থেকে ঢাকায় লঞ্চ যাবে না।
একইভাবে প্রতিটি লঞ্চের কাউন্টার থেকে কেবিন ও সোফা নেওয়া যাত্রীদের মোবাইল করে টাকা ফেরত নিতে বলছেন কাউন্টারের ম্যানেজাররা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, লোকসান দিয়ে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। এ জন্য লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি ধর্মঘট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না ধর্মঘট নয়। সরকার থেকে ভাড়া নির্ধারণ না করা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল করবে না। তাহলে সকাল থেকে কেবিনের টিকিট বিক্রি করলেন কেন জানতে চাইলে সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, এ জন্য যাত্রীদের কাছে আমি ক্ষমা চাই।









