নাটোরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটক ১১ জনের মধ্যে ৯ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অপর দুই জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী সদর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবারের (২২ নভেম্বর) ঘটনায় ১১৬ বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। ঘটনার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পর পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ কারণে তার অভিযোগের মধ্যে সরকারি কাজে বাধা, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ওপর হামলার দাবি তোলা হয়েছে।
মামলার আইও এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার আগে ১১ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাইয়ে জানা যায়, তাদের মধ্যে একজন পাশের ওষুধ ফ্যাক্টরির কর্মচারী আরেকজন রঙ মিস্ত্রি। ওই দুজনকে ছেড়ে দিয়ে ৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ওই ৯ জনকে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, ওই সংঘর্ষে আহত হয়ে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
জানা গেছে, সোমবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের জন্য নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ে জড়ো হন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ দলটির জেলার নেতাকর্মীরা। এ সময় বিনা উসকানিতে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেন বিএনপির নেতারা। তাদের দাবি, সংঘর্ষে দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সদর থানার ওসি মনসুর রহমানসহ পুলিশের কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।








