X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

বিনা অপরাধে শ্বশুর-জামাইয়ের ২২ দিন কারাভোগ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:১০

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টায় হঠাৎ শ্বশুর শফিউল ইসলাম (৬০) ও জামাতা মঞ্জুরুল ইসলামের (৩৫) বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ও কোমরে রশি বেঁধে গ্রামবাসীর সামনে পুলিশের ভ্যানে তুলে নেওয়া হয় থানায়। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর জারি করা এক পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে। এরপর আদালতে প্রমাণ হয় ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাদের জেলে নেওয়া হয়েছে। পরে দেওয়া হয়েছে মামলা থেকে অব্যাহতি, পেয়েছেন মুক্তি। মাঝে বিনা অপরাধে ২২ দিন কারাভোগ করলেন শ্বশুর শফিউল ও জামাতা মঞ্জুরুল। একইসঙ্গে বিচারক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন ডিবি পুলিশকে।

ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের সাখিদারপাড়া গ্রামে। গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তারা মুক্তি পেয়েছেন। একইসঙ্গে বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। ওই আদেশ পেয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তি দেয়। সেই সঙ্গে আদালত জয়পুরহাট গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিনা অপরাধে কারাভোগকারী শফিউল ও মঞ্জুরুল জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে খাওয়া শেষে নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। গভীর রাতে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বাড়ি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে পুলিশ বাড়িতে ঢুকে তাদের নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। তারা নিজেদের নাম-পরিচয় বলেন। এ সময় পুলিশ তাদের ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর সিল ও বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখান। এরপর পুলিশ তাদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ও কোমরে রশি বেঁধে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানায় নিয়ে যায়।

শ্বশুর ও জামাতা আরও জানান, ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ তাদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন। জয়পুরহাট কারাগার থেকে ৭ জানুয়ারি তাদের ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৯ জানুয়ারি তারা ছাড়া পান। সেখানে থাকা অবস্থায়ই তারা ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় কারাগারে ছিলেন বলে জানতে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলা নম্বর ৭২/২০২০-এর গ্রেফতারি পরোয়ানায় শ্বশুর শফিউল ইসলাম ও জামাতা মঞ্জুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলার বাদী তাহমিনা রহমান। এ মামলায় তাহমিনা তার স্বামী এস এম আবদুস সামাদকে আসামি করেন। এজাহারে আসামির বাড়ি পাবনার সদর উপজেলার চরপ্রতাপপুর উল্লেখ করা হয়। যৌতুক দাবি করার অভিযোগে তাহমিনা রহমান স্বামীর বিরুদ্ধে ওই মামলা করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, শ্বশুর ও জামাতাকে গ্রেফতারের পর জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকের কাছে খণ্ড নথি পাঠানো হয়। ঢাকার ওই আদালতের বিচারক ৭২/২০২০ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনা করে শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলাম নামের কেউ এই মামলার আসামি নন এবং তাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জাল ও ভুয়া বলে জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ জানুয়ারি আদেশের একটি অনুলিপি পাঠান। 

ওই আদেশের অনুলিপি পেয়ে জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম কারাগারে থাকা শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে ১১ জানুয়ারি অব্যাহতি দেন এবং মুক্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বিচারক জাহাঙ্গীর আলম জাল ও ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

শফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে ও আমার জামাতাকে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় গ্রেফতার করে ২২ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। আমাদের মান-সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। আমরা বাড়ির বাইরে গেলে গ্রামবাসী তাকিয়ে থাকে। আমাদের লজ্জা লাগে। সবচেয়ে বড় লজ্জার কারণ বিনা অপরাধে শ্বশুর ও জামাইকে একসঙ্গে কারাভোগ করতে হলো। তাই বিনা অপরাধে কারাভোগের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন রহমান বলেন, ‘শফিউল ইসলাম ও তার মেয়ের জামাই মঞ্জুরুল ইসলাম কৃষিকাজ করেন। ঢাকার আদালতে কীভাবে তাদের নাম গেলো, এটা আমরা জানতে চাই।’

ক্ষেতলাল থানার ওসি নীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘পরোয়ানা পেয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারি পরোয়ানা যেভাবে ইস্যু করা হয়, তার সবই সঠিক ছিল।’

জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই দুই ব্যক্তির গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়ে আদালত মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ঘটনাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।’

/এফআর/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
চট্টগ্রামের ৩ থানায় নতুন ওসি
চট্টগ্রামের ৩ থানায় নতুন ওসি
ম্যাথুজ নিজেও বোঝেননি তার ব্যাটে বল লেগেছে
ম্যাথুজ নিজেও বোঝেননি তার ব্যাটে বল লেগেছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে আসে বিদ্যুৎ বিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে আসে বিদ্যুৎ বিল
ইউল্যাবে সেমিনার: ‘অনুবাদে শহীদুল জহির: বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি’
ইউল্যাবে সেমিনার: ‘অনুবাদে শহীদুল জহির: বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি’
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নাম পাল্টে ভোলা হয়ে গেলেন মাসুদ, পালিয়ে ছিলেন ১৪ বছর
নাম পাল্টে ভোলা হয়ে গেলেন মাসুদ, পালিয়ে ছিলেন ১৪ বছর
টিটিই শফিকুল নির্দোষ: তদন্ত কমিটি
টিটিই শফিকুল নির্দোষ: তদন্ত কমিটি
প্রথম সমাবর্তনের জন্য প্রস্তুত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথম সমাবর্তনের জন্য প্রস্তুত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
ভাত খাওয়ানোর জন্য ডেকে শিশুকে ধর্ষণ, রিকশাচালক আটক
ভাত খাওয়ানোর জন্য ডেকে শিশুকে ধর্ষণ, রিকশাচালক আটক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানুষের রাগ কমাবে: ডা. জাফরুল্লাহ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানুষের রাগ কমাবে: ডা. জাফরুল্লাহ