বগুড়ায় দুই বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই আলমগীর কবির (৩২) চাকরি পাচ্ছেন। স্থানীয় পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আলমগীরকে তার কার্যালয়ে ডেকে বগুড়ার স্বপ্ন আউটলেটে চাকরির আশ্বাস দেন। তবে তিনি কোন পদে চাকরি পাচ্ছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে তার দেওয়া বিজ্ঞাপনের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী ভিন্ন কথা বলছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমগীর কবির জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শরাইল গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেছেন। গত ১০ বছর তিনি কলেজ সংলগ্ন শহরের জহুরুলনগর এলাকায় বসবাস করেন। আগে মেসে থাকলেও বর্তমানে গত পাঁচ বছর ঢাকায় থাকা এক ব্যক্তির চারতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থেকে পুরো ফ্ল্যাট দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি আলমগীর জহুরুলনগর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় “শুধুমাত্র দু’বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই। সকাল ও দুপুর। অংক ছাড়া প্রথম থেকে দ্বাদশ। স্থান: জহুরুলনগরের আশেপাশে, বগুড়া। মো. আলমগীর কবির, পেশা: বেকার।” লেখা পোস্টার সাঁটিয়ে দেন। এরপর ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেন। সেটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ছাড়াও পোস্টটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংবাদ হয়। এরপর বগুড়া পুলিশ তাকে খুঁজতে থাকেন।
অবশ্য সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, মূলত মানবিক দিক বিবেচনায় আলমগীরের খোঁজ করা হয়। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে তাকে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়।
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। পরে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন থাকায় তাকে বগুড়ায় স্বপ্ন সুপার শপের আউটলেটে চাকরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কোন পদে চাকরি হচ্ছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তার যোগ্যতা অনুসারে চাকরি হবে। পুলিশ সুপার বলেন, তাকে বলা হয়েছে এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হীনমানসিকতার পরিচয়।
এ প্রসঙ্গে আলমগীর কবির জানান, আর্থিক অনটনের কারণ তার তিনবেলা ঠিকমতো খাওয়া হচ্ছিল না। উপায় না দেখে সম্প্রতি তিনি বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নেন। তিনি জানান, ফেসবুকে ওই পোস্ট তিনি করেননি। কেউ একজন করেছেন। আলমগীর কবির দাবি করেন, তিনি কেবল টিউশনি পেতেই বিজ্ঞাপনটি প্রচার করেছেন। তার অন্য কোন উদ্দেশ্যে ছিল না। কিন্তু বিষয়টিকে ইস্যু করে অনেকে নেতিবাচকভাবে তা উপস্থাপন করেছেন।
তবে স্থানীয়রা আলমগীর কবির সম্পর্কে উল্টো কথা বলছেন। তার টিউশনির বিজ্ঞাপন ভাইরাল হবার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের বেশ কিছু স্ক্রিনশটও। যেগুলোর কোনোটিতে তিনি সিগারেট মুখে নিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন, কোনোটিতে বিয়ারের ক্যান আবার কোনোটিতে নানান অঙ্গভঙ্গি করে কুরুচিপূর্ণ কথাও লিখেছেন। আলমগীর অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ধূমপান করেন না। বন্ধুদের কাছ থেকে সিগারেট চেয়ে নিয়ে ছবিগুলো তুলেছেন, পোস্ট করেছেন মজা করে।
বগুড়া শহরের জহুরুলনগর এলাকার পারভেজ ও বেশ কয়েকজন জানান, আলমগীর কবির মূলত ভাইরাল হওয়ার জন্য ওই বিজ্ঞাপন দেন। তার তেমন অভাব নেই। একটি বাড়িতে ফ্রি থাকেন। তাকে পারভেজের আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এলাকাবাসীদের ধারনা, তার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল।
আলমগীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পরীক্ষায় সারাদেশে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার দাবিও করেন। তার সরকারি আজিজুল হক কলেজের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কর্তৃপক্ষ বলছেন, সে সারাদেশে নয়; কেবল নিজ বিভাগেই প্রথম হয়েছেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি না পাওয়ায় হতাশা থেকে এমন বিজ্ঞাপনের কৌশল নিয়েছেন আলমগীর কবির।








