পাবনায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষকের বাড়িতে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে পাঁচটি গরু, স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ মার্চ) রাতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) বিকালে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন হেমায়েতপুরের চরভবানীপুর গ্রামের নাঈম ইসলাম নায়েব। অভিযুক্ত আতাহার মন্ডল পাবনার সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।
আহতরা হলেন—ভুক্তভোগী কৃষকের বাবা মাজেদ আলী প্রামানিক (৬৫), মা নাজমা খাতুন (৫৫), স্ত্রী সালমা আক্তার (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাঈম ইসলােমের চাচা রহমত প্রামানিকের সঙ্গে তাদের দাদার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। জমি মাপা নিয়ে সোমবার সকালে তাদের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি হস্তক্ষেপের জন্য রহমত প্রামানিক আতাহার মন্ডলের শরণাপন্ন হোন। পরে কৃষক নায়েবের বাড়িতে গিয়ে নানা হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করেন আতাহর।
রাতে তার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পাঁচটি গরু, নগদ দুই লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধ মাজেদ প্রামানিকসহ বাড়িতে থাকা সবাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতাবস্থায় মাজেদ আলীকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় কৃষকের মা ও স্ত্রীকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাঈম ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই ইউপি সদস্য পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার হলেও পাবনা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেন। এলাকায় চুরি, ডাকাতি, সালিশি বাণিজ্য, অবৈধভাবে মাটি কেটে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কথায় কথায় এলাকার মানুষকে জিম্মি করেন তিনি।
ইউপি সদস্যকে চাঁদাবাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমি যখন বিদেশ থেকে বাড়িতে আসি, তখন আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।
বৃদ্ধা নাজমা খাতুন বলেন, ‘আমরা কি তাহলে এই দেশ থেকে চলে যাবো? কোনও দোষ না করলেও এই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে লোকজন বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালালো। আমার স্বামীকে কুড়াল ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও গরুসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। মামলা না করতে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। থানায় মামলা বা অভিযোগ দিলে আবারও বাড়িতে হামলা চালানোর ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হামলার বলেন, ‘তাদের ভাই-ভাতিজাদের মধ্যে জমিজমার বিরোধ মীমাংসা করতে গেলে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ কথা যখন আমার গোষ্ঠীর লোকজন শুনতে পায়, তখন তারা বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে হামলা চালিয়েছে। এ সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। গরু, টাকা ও স্বর্ণালংকারের বিষয়টা লুট মিথ্যা।’
হেমায়েতপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। গরুসহ বেশ কিছু মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী নায়েব বাদী হয়ে থানায় এক লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।









