পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সায়দার মালিথা হত্যায় জড়িত ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। কক্সবাজার, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-আনোয়ার আহম্মেদ স্বপন (৪২), মোহাম্মদ আশিক মালিথা (২৮), রিপন খান (২৭), নুরুজ্জামান রাকিব (২৪), ইয়াসিন আরাফাত ইস্তি (২৬) ও মোহাম্মদ আলিফ মালিথাকে (২২)।
পুলিশ সুপার জানান, আওয়ামী লীগ নেতা সায়দার হত্যাকাণ্ডের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কক্সবাজার, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এরপর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড তাজা গুলি, দুই রাউন্ড ফায়ারকৃত কার্তুজ, ধারালো অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হেমায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মালিথা চেয়ারম্যান থাকাকালীন চাচাতো ভাই সায়দার মালিথাসহ তার লোকজনদের ৬০-৭০ বিঘা সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলাউদ্দিন মালিথা হেরে গেলে ওইসব সম্পত্তি সায়দার মালিথা ও তার লোকজন দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এই দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সর্বশেষ ঘটনার আগের দিন (৮ সেপ্টেম্বর) তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আলাউদ্দিনের ভাই সঞ্জু মালিথাকে হেমায়েতপুর মন্ডল মোড়ে সায়দার মালিথার লোকজন মারধর করে। এতে আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে সায়দারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। আসামিদের সঙ্গে বাড়িতে বৈঠক করে ভাতিজা স্বপনকে হত্যার দায়িত্ব দেন আলাউদ্দিন।
পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, পরিকল্পনা অনুয়ায়ী গত ৯ সেপ্টেম্বর সায়দার মালিথা জুমার নামাজে যাওয়ার সময় আসামিদের নিয়ে হত্যা মিশনে অংশ নেন স্বপন। তিনি পিস্তল দিয়ে সায়দারকে গুলি করেন এবং অপর আসামিরা চাকু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিতের পর মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।









