নাটোরের গুরুদাসপুরে নারী হত্যার অভিযোগে মামলায় স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতে হাজির করলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেফতার দুজন হলেন নিহত নারীর স্বামী নাঈম হোসেন (২৭) ও শাশুড়ি আরবি বেগম (৫০)।
নিহত নারীর নাম রাত্রী খাতুন (২২)। তিনি গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামার নাচকৈড় খোয়াড়পাড়ার রঞ্জু প্রামাণিকের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ অক্টোবর) একটি পুরনো গ্যাসের চুলা কেনার বিষয়ে জানাতে মেয়ের বাড়িতে আসেন রাত্রী খাতুনের মা। মেয়ে স্বামীর সঙ্গে আলাপ করবে জানালে মা চলে যান। পরে পুরনো চুলা কিনতে হবে কেন জিজ্ঞেস করে পুত্রবধূকে বকতে থাকেন শাশুড়ি। এ সময় রাত্রীর দেবর মাকে থামাতে না পেরে তাকে মারধর করেন। বড় ছেলে বাড়িতে এসে সব শুনে স্ত্রীর সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
এ নিয়ে ওই দিন রাতে রাত্রী রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তাকে রাস্তা থেকে ফেরত আনা হয়। এরপর রাত ১টার দিকে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন রাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় নিহত রাত্রী খাতুনের বাবা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ রাত্রীর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
এ ব্যাপারে প্রতিবেশী মামুন জানান, রাত্রীর মা সন্ধ্যার আগেই বাড়ি চলে যান। এরপর এ নিয়ে ঝগড়া বাধলে রাত্রীর দেবর আজমির তার মাকে মারেন। তারা গিয়ে আজমিরকে সরিয়ে নেন। পরে রাত্রীর স্বামী নাঈম এলে গন্ডগোলের এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে রাগ করে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন স্থানীয় বিপ্লবের ছোট ভাই সুজন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, গত রাতে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়ের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে গৃহবধূর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতর করে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি আরও জানান, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই জানা যাবে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন।








