জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্ত্রী ও ছেলেসহ বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলালের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সম্পদ বিবরণীতে দেড় কোটির অধিক টাকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী আবে জমজম নাজীর নামে এক কোটির বেশি টাকার স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি করেন। বাকি দুই আসামি হলেন- সামছুদ্দিন শেখ হেলালের প্রথম স্ত্রী হেলেনা পারভীন ও ছেলে হোসাইন হাবীব।
এই প্রসঙ্গে সামছুদ্দিন শেখ হেলাল দাবি করেন, নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করি। স্ত্রী ও ছেলেসহ আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা সঠিক নয়। মামলা আইনিভাবে মোকাবিলা করবো।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সামছুদ্দিন শেখ হেলাল, তার স্ত্রী হেলেনা পারভীন ও ছেলে হোসাইন হাবীবকে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা ২০২১ সালের ২৫ মে দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন।
দুদকের তদন্ত ও অনুসন্ধানে উঠে আসে, সামছুদ্দিন শেখ হেলাল তার সম্পদ বিবরণীতে ৫৮ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ টাকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণাসহ ৯ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ৯২৬ টাকা ৩৪ পয়সার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে এক কোটি দুই লাখ ৫৯ হাজার ৩৫৭ টাকার স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে অপরাধ করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে রবিবার দুদক জেলা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তার স্ত্রী হেলেনা পারভীন সম্পদ বিবরণীতে ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৯ টাকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেওয়াসহ দুই কোটি ৪১ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৩ টাকা ৪১ পয়সার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি স্বামী, ছেলে ও মেয়ের নামে এক কোটি ৭২ লাখ ১২ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর
করার অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া তার ছেলে হোসাইন হাবীব নিজের সম্পদ বিবরণীতে ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ৬২২ টাকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেওয়াসহ দুই কোটি ৮০ লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অপরাধ করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়।
তিনটি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সামছুদ্দিন শেখ হেলাল, স্ত্রী রেহেনা পারভীন ও ছেলে হোসাইন হাবীব সম্পদ বিবরণীতে এক কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ৮৯৫ টাকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। তারা মোট ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার ২৫৮ টাকা ৭৫ পয়সার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। হেলাল দ্বিতীয় স্ত্রীকে এক কোটি দুই লাখ ৫৯ হাজার ৩৫৭ টাকার স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন।
মামলার বাদী দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, মামলাগুলো তদন্তে শিগগিরই কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।








