রাজশাহীতে দুই শিশুকে নির্যাতন: জামিন পেলেন আরও ৩ আসামি

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:০৪আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:২১

রাজশাহীতে দুই শিশুকে নির্যাতন রাজশাহীর পবা উপজেলায় দুই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় আরও তিন আসামির জামিন হয়েছে। বুধবার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের (শিশু) বিচারক হায়দার আলী খন্দকার এ জামিন দেন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, মামলার এক নাম্বার আসামি রাকিব, রাকিবের বাবা ফজলু এবং কমল। এর আগে মঙ্গলবার আজিজুল ইসলাম এবং তার ছেলে উজ্জ্বল হোসেনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
বুধবার সিনিয়ার জুডিশিয়াল আদালত থেকে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানো হয়। তবে মঙ্গলবার তথ্য গোপন করে ওই আদালত থেকে এ মামলার দুই আসামি জামিন নিয়েছেন বলে জানান এপিপি রাশেদ উন নবী আহসান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত-১ এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার সাত আসামি। তবে নির্যাতিত শিশুদের বয়স বিচারক একরামুল কবীরের নজরে আসায় তিনি আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ না করে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠিয়ে দেন। শিশু আদালত থেকে বুধবার আরও তিন আসামি জামিন নিলেন।  ফলে বাকি রইলো আট আসামির জামিন।

নির্যাতনের শিকার একটি শিশুর বাবা কথা বলেন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এদিকে, আসামিরা জামিন পেয়ে যাওয়ায় মামলার বাদী ইমরান হোসেন এ ঘটনার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ’ ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করছি।’
নির্যাতনের শিকার জাহিদের বাবা ইমরান হোসেন আরও বলেন, ’আশা করেছিলাম আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাব। কিন্তু একের পর এক আসামি জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছি। জানতে পেরেছি, পুলিশ দুর্বল ধারায় মামলা রেকর্ড করেছে। তাই আসামিরা সহজে জামিন পাচ্ছেন। এভাবে জামিনে ছাড়া পেয়ে গেলে আমাদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হবে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী দিল সিতারা চুনি অভিযোগ করেন, আটক, অপহরণ, মারপিটসহ বিভিন্ন সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও পুলিশ মামলাটি  ৩৬৪ ধারায় রেকর্ড করেনি। সেনা ও র‌্যাবের সদস্য আসামি থাকায় পুলিশ কৌশলে ৩২৩ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করেছে। ফলে একের পর এক আসামি জামিন পেয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহীতে দুই শিশুকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন এদিকে, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারি মোড়ে বিক্ষোভ করে। এছাড়াও বেসরকারি সংগঠন লফসের উদ্যোগে নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মোবাইল চুরির অভিযোগে  শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জাহিদ হাসান (১৫) ও ইমন (১৩) নামের দুই শিশুকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। আহত দুই শিশুর মধ্যে শনিবার সকালে জাহিদ হাসানকে পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। আর ভয় ও আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ইমন। রবিবার রাতে তাকে উদ্ধারের পর একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে জাহিদ হাসানের বাবা ইমরান আলী পবা থানায় এক সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

/বিটি/ টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের