রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে দল থেকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। শনিবার (৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘রাজশাহী আওয়ামী পরিবারের’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিল থেকে ডাবলু সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় দলকে বাঁচানোর স্বার্থে ডাবলু সরকারকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ডাবলু সরকারের নোংরা ভিডিও রাজনীতিতে অশনিসংকেত ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক। অবিলম্বে ডাবলু সরকারকে রাজনীতি থেকে অপসারণ করতে হবে।’ আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতির দুষ্টক্ষত ডাবলু সরকারকে আওয়ামী লীগ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ হাতে হাতে ফেস্টুনে ডাবলুর ছবিতে ক্রস চিহ্ন দিয়ে লেখা ছিল, ‘নির্বাচনের বছরে দল বিব্রত হয়, এমন কাউকে দলে এক সেকেন্ডও রাখা যায় না।’
সমাবেশে সাবেক ছাত্রনেতা আবু রায়হান মাসুদ গত ২ মার্চের কর্মসূচিতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, ‘সেদিন যারা হামলা করেছিল, তারা বাহিনী ছিল। সেদিন ব্যানারে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ছবি ছিল। সেই ছবিতে তারা লাথি মেরেছে। এর বিচার আমরা চাই। জেডু না ফেডু একটা সরকার আছে, রুয়েটে চাকরি করে। সেই চাকরি করা অবস্থায় এখানে এসেছে, হামলা চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা আইনি নোটিশ পাঠাবো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। ভিসির কাছে পাঠাবো। আমাদের সবকিছু রেডি হচ্ছে। তারা যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আমরা আদালতে মামলা করবো। আগামী দিনে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ওপরে যেন এই নোংরামির দায়ভার না পড়ে, এই দলে যেন নারীরা নিরাপদে থাকতে পারে, আমার কর্মীরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে, এই দাবিতেই আমাদের এই কর্মসূচি।’
ডাবলু সরকারকে উদ্দেশে করে আবু রায়হান মাসুদ বলেন, ‘আপনার সাহস থাকলে প্রমাণ করুন ভিডিওতে থাকা ওই ব্যক্তি আপনি না। আপনি জোর গলায় এখন পর্যন্ত বলতে পারেননি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে বলবো, অনতিবিলম্বে তথ্য উদ্ঘাটন করে দলটাকে বাঁচান। ব্যভিচার করা ব্যক্তিকে আপাতত অপসারণ করেন। জনগণকে বোঝান যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। অনেক রাঘব-বোয়ালকে প্রধানমন্ত্রী শাস্তি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী একজন ভালোবাসার মানুষ, তাকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নগরীর রাজপাড়া থানা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বুলবুল, সাবেক ছাত্রনেতা সিরাজি কয়েল, সাবেক ছাত্রনেতা ও ক্রীড়া সংগঠক এস এম রবিউল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা বেলায়েত হোসেন বেলাল প্রমুখ। এ ছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নগরীর রাজপাড়া থানা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বুলবুল, সাবেক ছাত্রনেতা সিরাজি কয়েল, সাবেক ছাত্রনেতা ও ক্রীড়া সংগঠক এস এম রবিউল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা বেলায়েত হোসেন বেলাল প্রমুখ।
জানা গেছে, ‘রাজশাহী আওয়ামী পরিবারের’ পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি আয়োজনের কথা বলা হলেও মহানগর আওয়ামী লীগের কেউ এই কর্মসূচিতে ছিলেন না। কিন্তু কর্মসূচির আয়োজক আইনজীবী আবু রায়হান মাসুদের দাবি, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ তার সঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু তারা ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।
বিক্ষোভ মিছিল শেষ পর্যন্ত যেখানে গিয়ে থামে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া থানার ওসি মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন। তার কাছে ডাবলু সরকারের ‘নোংরা ভিডিও’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘ওই ভিডিওটি তার (ডাবলু) দাবি অনুসারে এডিট করা। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। এ বিষয়ে এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।’
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে ডাবলু সরকারের সঙ্গে আলাপের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু কোনোভাবে তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে ডাবলু সরকারের মুখ দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে, ডাবলু সরকার ভিডিও কলে কথা বলছেন। পরে বিবস্ত্র অবস্থায় অশালীন কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। ডাবলু সরকার দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির মুখ তার। তবে শরীরের নিচের অংশ অন্য কারও। এই ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেছেন।








