পুলিশকে বোকা বানিয়ে বগুড়া শহরের দুটি হোটেল মালিকের কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১২ জুন) সকালে তাকে গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় এই চক্রের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, গ্রেফতার দুজনের মধ্যে একজনের নাম তুহিন মিয়া (৩৫)। অন্য জনের বয়স ১৬। তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। তুহিন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গাছাবাড়ী পশ্চিমপাড়ার আমির উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে।
সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, তুহিন গত ৭ জুন সকালে বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসারের কাছে ফোন দেন। তিনি নিজেকে সদর উপজেলার ইউএনও দাবি করেন। এরপর বলেন শহরের নামাজগড়ে একটি সমস্যা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ফোর্স লাগবে। ইউএনও পরিচয় পাওয়ার পর তিনি উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জাহাঙ্গীর আলমকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। এএসআই জাহাঙ্গীর আলম সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রতারক অপরপ্রান্ত থেকে নিজেকে ইউএনও পরিচয় দেন। এরপর পুলিশকে উপশহর এলাকার হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা বিশ্বাস করে হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে চলে যায়। পরে প্রতারক চক্রের সদস্য তুহিন হোটেল ব্যবসায়ী শাহীনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া রবিউল ইসলাম নামে অপর হোটেল মালিকের কাছে ছয় হাজার টাকা আদায় করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাটি প্রতারণা বুঝতে পেরে সবাইকে সতর্ক করেন।
এ ব্যাপারে গত ১১ জুন সদর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, প্রতারকরা গত ১২ মে নন্দীগ্রাম থানার এসআই শরিফুজ্জামানের মাধ্যমে একই কায়দায় দুই হোটেল মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করে। তারা আজিজ নামে একজনের কাছে বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা নেন। ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা তুহিন ও এক কিশোরকে শনাক্ত করে। সোমবার সকালে গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার প্রতারক চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনে ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেটসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করতো। এভাবে তারা সহজে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল।









