রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মফিজুর নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) নিজের নিরাপত্তা চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর দফতর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগকারী মফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি নবাব আব্দুল লতিফ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
মফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তাসকিফ আল তৌহিদ তাকে মারধর করেছেন। কমিটি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তার পক্ষ থেকে তৌহিদকে ওই হল দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
এর আগে গত বছরের জুনে ওই হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছিল তৌহিদসহ তিন জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রাধ্যক্ষ পরিষদের এক জরুরি সভায় তৌহিদকে হল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।
লিখিত অভিযোগ ও মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকালে ডাক্তারের কাছে রিপোর্ট নিতে যাওয়ার পথে হল গেটে ছাত্রলীগ নেতা তাসকিফ আল তৌহিদের সঙ্গে তার দেখা হয়। তৌহিদ তাকে জিজ্ঞেস করেন কোথায় যাচ্ছেন। তিনি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন শুনে তৌহিদ তার রিপোর্টটা হাতে নেন এবং বাবা কী করেন জানতে চান। বাবা রিকশা চালান জানার পর তৌহিদ বলেন, ‘বাবা রিকশা চালায়, অথচ তুই এত টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাস কী করে?’ এছাড়া তার বাবাকে হেয় করে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন বলেও দাবি করেন মফিজুর।
এসময় তিনি একটি সামাজিক সংগঠন থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করছেন বলে জানান। এ কথা শোনার পর তৌহিদ মফিজুরকে দশ জন ছাত্রলীগ নেতাকে রান্না করে খাওয়াতে বলেন। এতে রাজি না হলে তৌহিদ দাবি করেন তার এক ছোটো ভাই তিন হাজার টাকা পায় মফিজুরের কাছে। এ নিয়ে দুজন বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তৌহিদ ও তার কয়েকজন অনুসারী মফিজুরকে অতিথিকক্ষে (গেস্টরুম) নিয়ে যান এবং পিঠে আঘাত করেন। তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
মারধর ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত তাসকিফ আল তৌহিদ বলেন, হলের ছোটো ভাইদের সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ স্যার বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একটু আগে বিষয়টি শুনেছি। আমি বর্তমানে সাংগঠনিক সফরে আছি। ক্যাম্পাসে ফিরে বিষয়টা দেখবো।
নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পরে উভয়পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি।









