বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সাধনা ফাউন্ডেশন নামে একটি ভুয়া এনজিওর লোকজন ঋণ দেওয়ার প্রলোভনে গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক কষ্টের টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগীরা বুধবার (৫ জুন) রাতে সারিয়াকান্দি থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তবে তারা ওই এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম পরিচয় পর্যন্ত বলতে পারেননি। ঋণ পাওয়ার আশায় সরল বিশ্বাসে তারা টাকা জমা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাধনা ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার লোকজন সারিয়াকান্দি উপজেলায় এসে ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। তবে তারা নিজেদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেননি। মোটা অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রলোভনে প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৩৪০ টাকা করে রেজিস্ট্রেশন ফি নেন।
পরে গত ৩১ মে রাতে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের আমতলি গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মঈন উদ্দিন সবুজের স্ত্রী জয়া আক্তারের বাসা ভাড়া নেন। বাসার প্রাচীরে সাধনা ফাউন্ডেশনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকার অনুমোদিত ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার ছিল সমিতির ঋণ বিতরণের দিন। এর আগে তারা মানুষকে ঋণ দেওয়ার নামে অফিসে ডেকে একজনের কাছ থেকে লাখ প্রতি আট হাজার টাকা সঞ্চয় জমা নেন। বুধবার সকালে গ্রাহকরা ঋণ নিতে এসে দেখেন, এনজিওর অফিসে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সাধনা ফাউন্ডেশন নামে ভুয়া এনজিওর লোকজন শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন। এর মধ্যে ঠান্ডা মিয়ার ১৬ হাজার, মোফাজ্জল হোসেনের আট হাজার, খালেদা বেগমের ২৪ হাজার, জাহিদুল ইসলামের আট হাজার, শাপলা বেগমের তিন হাজার ২০০, শহিদুলের আট হাজার, করিম মিয়ার ১৮ হাজার ও পাতানি বেগমের ১৬ হাজার টাকা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জয়া আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোনে জানান, ওই এনজিওর লোকজন ভুয়া তা তিনি বুঝতে পারেননি।
উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চরহরিণা গ্রামের ঠান্ডা প্রামানিকের স্ত্রী সীমা বেগম জানান, সাধনা ফাউন্ডেশনের লোকজন তার বাড়িতে এসে দল গঠন করেন। তাকে সেই দলের সভানেত্রী করা হয়। এরপর তিনি ও তার দলের সব সদস্য এনজিও কার্যালয়ে গিয়ে সঞ্চয় জমা দেন। বুধবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এসে দেখেন, তারা টাকা হাতিয়ে উধাও হয়েছেন।
সীমা বেগম জানান, দলের সভানেত্রী হিসেবে এখন সবাই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তারা বুধবার রাতে সারিয়াকান্দি থানায় মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে সারিয়াকান্দি থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকজন গ্রাহক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ
করেছেন। তবে জড়িতদের নাম ও পরিচয় বলতে পারেননি। তাদেরকে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়সহ লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, কিছুদিন আগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এমপিএল রিসোর্স ইনস্টিটিউট নামে আরেক এনজিও প্রায় ৪০০ গ্রাহকের কোটি টাকা হারিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।








