বগুড়া জেলা বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাহফুজুল হক টিকনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিতে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। আদমদীঘির ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। তবে বিএনপি নেতা টিকন শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগটি দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেন।
তিনি জানান, ওই ব্যবসায়ী এক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মিথ্যাচার করছেন।
ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জেলা বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সদস্য মাহফুজুল হক টিকন গত ২৩ আগস্ট রাতে তাকে ফোন দেন। তিনি মামলাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেন ও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেলে রাজনৈতিক কয়েকটি মামলায় আসামি করার হুমকি-ধমকি দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় হুমকি দিয়ে টিকন আমাকে বলেন আপনার ভাই শাহিনুর ইসলাম আমাদের চাহিদামতো চাঁদা না দেওয়ায় সান্তাহার যুবদল অফিস পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছে। আপনি আমার চাহিদা পূরণ না করলে আপনার জন্য এরচেয়ে কঠিন অবস্থা অপেক্ষা করছে।’
ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতা টিকনের এমন হুমকিতে তিনি অত্যন্ত ভয় পান। পরে ভাগনে শামীমের মাধ্যমে তাকে ৩০ হাজার টাকা পৌঁছে দেন। কৌশলে এ টাকা দেওয়ার অডিও এবং ভিডিও ধারণ করেন। যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে এ ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পেতে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনার কাছে টিকনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির পক্ষে গত ৩ সেপ্টেম্বর মাহফুজুল হক টিকনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়। এতে টিকন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে পরিবারসহ তাকে (শফিকুল) বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি নেতা টিকন গত ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সান্তাহার পৌরসভা নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তিনি বিএনপির দুই প্রার্থীকে টাকা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। জেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুল হক টিকনের এমন কর্মকাণ্ড এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, বিএনপি সরকার গঠনের আগেই টিকন যা শুরু করছেন, ক্ষমতায় এলে না জানি কী করবেন।’ এ সময় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম প্রতিকার পেতে জেলা বিএনপি নেতাদের কাছে আবেদন করেন। তারা টিকনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দেশের বৃহৎ এ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে বলেও মত দেন।
এদিকে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সদস্য মাহফুজুল হক টিকন শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করে বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম একজন প্রতারক, আদম ব্যবসায়ী। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এসব মিথ্যাচার করছেন।’ তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।









