চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে ‘রাকসু সংলাপ: সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি। সংলাপের আয়োজন করেছে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল। তবে এতে অংশ নেয়নি ছাত্রদল।
উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘আমার প্রবল ইচ্ছে আছে, ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটা পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরবো। আমরা পাঁচ মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছিলাম। তবে এর মধ্যে পোষ্য কোটা বাতিল আন্দোলনসহ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় সামনে আসায় সেটা সম্ভব হয়নি। এসব নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। তবে এবার আর আমরা সময় দিচ্ছি না। এই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই রাকসুর রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। দ্রুতই নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
সবাইকে রাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘রাকসু যেহেতু শিক্ষার্থীদের চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে, তাই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাই এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া গণতন্ত্রমনা এবং রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরে মুক্তচিন্তা চর্চা করে—এমন ১০০ শিক্ষক এবং এক হাজার শিক্ষার্থী হলেই আমরা রাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।’
সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন, সোচ্চার, স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক, সাংবাদিক সংগঠন ও ডিবেটিং সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ২০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। পাশাপাশি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি পরিচালক আরাফাত আলী সিদ্দিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সংলাপ সঞ্চালনা করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক পারভেজ আজহারুল হক।
এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কার ও সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার দাবি তোলেন। সেইসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রশাসনকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন তারা।
সংলাপে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের মধ্যে ঐক্যমত জরুরি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।’
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অংশ নেয়নি রাবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্র অধিকার পরিষদ। কেন অংশ নেয়নি সেটিও আয়োজকদের জানানো হয়নি।








