রাজশাহীর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেলের রিকশাচালককে জুতাপেটা করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার। শনিবার (১ মার্চ) এক চিঠিতে তিনি সমাজসেবা অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরা খাতুন ও পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজকে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার (২ মার্চ) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসকের নজরেও এসেছে। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
এর আগে, শুক্রবার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, কোয়ার্টারের সামনে জাহিদ হাসান রাসেল এক রিকশাচালককে পায়ের জুতা খুলে পেটান। পরে প্রাইভেটকারের ব্যাকডালা থেকে লাঠি বের করে চালকের শরীরে ও রিকশায় আঘাত করতে থাকেন তিনি। এ ছাড়া অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতেও দেখা যায় তাকে। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (২ মার্চ) অফিসে যাননি সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান। সোমবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত দুই দিন ছুটি নিয়েছেন তিনি। আজ নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, ‘এমন ঘটনা কি আর কারও জীবনে ঘটেনি? আমি অন্যায় করেছি। কিন্তু এত বড় শাস্তি কি আমার পাওনা ছিল?’ ওই ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।
সমাজসেবা অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, ‘ভিডিওটা আমরা দেখেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও অভিযোগকারী পাচ্ছি না। লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’
সমাজসেবা অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের হায়ার অথরিটি জানে। আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এ বিষয়ে ঢাকা থেকে ব্যবস্থা নেবে। এর বেশি আমরা বাইরে কিছু বলতে পারি না।’









