হৃদরোগে যুবদল নেতার মৃত্যু, ‘হত্যা’ দেখিয়ে আদালতে শেখ হাসিনার নামে মামলা

বগুড়া প্রতিনিধি
০১ জুন ২০২৫, ২২:৩২ আপডেট : ০১ জুন ২০২৫, ২২:৩২

বগুড়ার শাজাহানপুরে আওয়ামী লীগ সরকার পতন আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে হৃদরোগে মারা যান খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ফোরকান আলী (৪৭)। পরিবারের অমতে দলীয় নেতা এ ব্যাপারে আদালতে হত্যা মামলা করেন। মৃতের বাবা এ মামলা প্রত্যাহারে আদালতে আবেদন ও লাশ উত্তোলনে বাধাও দেন।

এরপরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় ও তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সর্বশেষ শনিবার (৩১ মে) রাতে উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আলাল উদ্দিনকে (৪৮) গ্রেফতার করা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ফোরকান আলী শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও ঘাসিড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিএমএসএসে চাকরি করতেন। গত ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে সাজাপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে মিছিল বের করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ায় মিছিল থেকে পালানোর সময় ফোরকান হৃদরোগে মারা যান।

দল থেকে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠলেও তার বাবা ও ভাই জানান, ফোরকান হামলা বা গুলিতে নয়, হৃদরোগে মারা গেছেন। চাপের মুখেও তার পরিবার মামলা থেকে বিরত থাকেন।

অথচ খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী হলুদ তাকে (ফোরকান) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে গত বছরের ১ নভেম্বর আদালতে মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬০ জনের নাম উল্লেখ করে ৫৬০ জনকে আসামি করা হয়।

ফোরকানের বাবা আবদুল কুদ্দুস মামলাটি প্রত্যাহার করতে আদালত ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দেন। এ ছাড়া কবর থেকে ছেলের লাশ উত্তোলনেও বাধা দেন। এরপরও এ ‘হত্যা’ মামলায় গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়ার শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ করিম জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতন আন্দোলনে যুবদল নেতা ফোরকান মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার থেকে মামলা করা হয়নি। এমনকি পরিবার থেকে লাশ উত্তোলনে বাধা দেওয়া হয়। দলের এক নেতা আদালতে হত্যা মামলা করেছেন। নিহতের বাবা আবদুল কুদ্দুস এ মামলা প্রত্যাহারে আবেদন করলেও আদালত তা অগ্রাহ্য করেন। ফলে মামলাটি চলমান আছে। এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় এবং তদন্তে পাওয়া আসামি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৮০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে শাজাহানপুর উপজেলার সুজাবাদ পূর্বপাড়ার বাড়ি থেকে মৃত গমির উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি তদন্তে পাওয়া আসামি। রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাঞ্চল্যকর মানিক হত্যা মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন
পুলিশ ক্যাম্পে নিজের অস্ত্রের গুলিতে প্রাণ গেলো এসআইয়ের
সর্বশেষ খবর
এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলেই কি খাবার স্বাস্থ্যকর?
এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলেই কি খাবার স্বাস্থ্যকর?
টেক্সাস আইনসভার প্রথম হিন্দু ও ইন্ডিয়ান-আমেরিকান নারী বিধায়ক পূজা শেঠি
টেক্সাস আইনসভার প্রথম হিন্দু ও ইন্ডিয়ান-আমেরিকান নারী বিধায়ক পূজা শেঠি
বাংলাদেশ-রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৈঠক কাল
বাংলাদেশ-রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৈঠক কাল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হচ্ছেন হাকিম জেফ্রিস?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হচ্ছেন হাকিম জেফ্রিস?
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
চাঁদাবাজির মামলায় চার্জশিট দাখিল ‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হবে ওয়াই-টাইপ
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হবে ওয়াই-টাইপ
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত