রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনিক ভবন থেকে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের সরিয়ে তাদের জায়গায় বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠন রাবি অফিসার্স ফোরামের নেতারা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
অফিসার্স ফোরামের নেতারা দাবি করেন, প্রশাসনিক ভবন থেকে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিনিয়র কর্মকর্তাদের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে বদলি করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে অফিসার ইউনিটের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. মাসুদ রানাকে বদলি করে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার, সাধারণ কর্মচারী ইউনিটের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো.মনজুরুল হককে বদলি করে রহমতুন্নেসা হলের উপ-রেজিস্ট্রার, গোপনীয় শাখার উপ-রেজিস্ট্রার শেখ ফরিদকে বদলি করে বাংলা বিভাগের স্বপদে, একাডেমিক শাখা-১ এর উপ-রেজিস্ট্রার আবু মো. তারেককে স্বপদে লিগ্যাল সেলে বদলি করা হয়। একইভাবে মোট ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন বিভাগে বদলি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাবি অফিসার্স ফোরামের সেক্রেটারি কাজী মামুন বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই সরকারের অন্যতম অংশীজন হিসেবে আমরাও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বেছে বেছে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে, যাদের জামায়াতপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, প্রশাসনিক ভবন থেকে বিভিন্ন বিভাগে বদলি করেছে। এমনকি অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তাদের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে পদায়ন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চাকরির অংশ হিসেবে বদলিকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানাই। তবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ ছিল, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখে বদলি করা হোক। একজন কর্মকর্তা ২০-২২ বছর প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্ব পালনের পর তাকে হঠাৎ বিভাগে বদলি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। প্রয়োজন হলে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তাদের বিভাগে পদায়ন করা যেত।’
অফিসার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, এটি দলীয়করণের জায়গা নয়; এটি যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ও পদায়নের স্থান। উপাচার্য আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সেই আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে অপেক্ষা করছি। তবে যদি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রশাসনিক ভবনে রেখে আন্দোলনে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের অবমাননাকরভাবে বদলি করা হয়, তাদের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে পদায়ন করা হয়, তাহলে সাধারণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রশাসন ড. মো. আব্দুল আলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনও দলীয় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে বদলি একটা রুটিন ওয়ার্ক। আজকে এক জায়গায় কাজ করলে কাল অন্য জায়গায়। এরকম টেবিল চেঞ্জ হয়। সেটাই হয়েছে।’
তবে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।









