বিমান চালানো শুধু রোমাঞ্চকর একটি পেশাই নয়, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই পেশায় রয়েছে আকর্ষণীয় আয়ের সুযোগও। তবে একজন পাইলট বছরে ঠিক কত আয় করেন, তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর।
কোন এয়ারলাইন্সে কাজ করছেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, কোন ধরনের বিমান পরিচালনা করছেন এবং দেশীয় নাকি আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব পালন করছেন—এসবের ওপর পাইলটদের বেতন ও মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে এমন পার্থক্য। এভিয়েশন এ টু জেড-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের বার্ষিক আয় ফার্স্ট অফিসারদের ক্ষেত্রে ২৮ লাখ রুপি থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনদের ক্ষেত্রে প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে।
ফার্স্ট অফিসারদের আয় কত?
এভিয়েশন এ টু জেড-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার ফার্স্ট অফিসারদের বার্ষিক আয় সাধারণত ২৮ লাখ থেকে ৫৫ লাখ রুপির মধ্যে।
এয়ারলাইন্সে নতুন যোগ দেওয়া পাইলট এবং ন্যারোবডি বিমান পরিচালনাকারীরা সাধারণত এই বেতনসীমার নিচের দিকে থাকেন। তবে অভিজ্ঞতা ও ফ্লাইং আওয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আয়ও বাড়তে পারে।
একজন ফার্স্ট অফিসার যখন ন্যারোবডি বিমান থেকে ওয়াইডবডি ফ্লিটে যাওয়ার সুযোগ পান এবং আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার উপার্জন আরও বাড়তে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে থাকা বোয়িং ৭৭৭, বোয়িং ৭৮৭ ও এয়ারবাস এ৩৫০-এর মতো ওয়াইডবডি বিমান পরিচালনাকারী পাইলটরা এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি আয় করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সময় লে-ওভার ভাতা, প্রোডাক্টিভিটি ইনসেনটিভ এবং অতিরিক্ত ফ্লাইং আওয়ার থেকেও বাড়তি আয় হতে পারে।
ক্যাপ্টেনদের বেতন আরও বেশি
পাইলটদের ক্যারিয়ারে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হওয়ার পর আয়ের অঙ্কে বড় পরিবর্তন আসে। এভিয়েশন এ টু জেড -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনদের বার্ষিক আয় ৮৫ লাখ থেকে ১ দশমিক ৮ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে।
দেশীয় ও আঞ্চলিক রুটে এয়ারবাস এ৩২০-এর মতো ন্যারোবডি বিমান পরিচালনাকারী ক্যাপ্টেনরা সাধারণত এই পরিসরের নিচের দিকে থাকেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে বড় ওয়াইডবডি বিমান পরিচালনাকারী অভিজ্ঞ সিনিয়র ক্যাপ্টেনদের আয় অনেক বেশি হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, বিমানের ধরন, ফ্লাইং আওয়ার এবং আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়গুলো মোট উপার্জনে বড় প্রভাব ফেলে।
মূল বেতনের বাইরে রয়েছে আরও আয়
এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের মোট আয় শুধু নির্দিষ্ট মাসিক বেতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বার্ষিক উপার্জনের সঙ্গে ফ্লাইং অ্যালাওয়েন্স, আন্তর্জাতিক লে-ওভার পেমেন্ট এবং প্রোডাক্টিভিটি-ভিত্তিক আয় যুক্ত হতে পারে।
এ কারণে একই এয়ারলাইন্সে কাজ করলেও দুই পাইলটের বার্ষিক আয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। তারা কোন পদে আছেন, কী ধরনের বিমান চালাচ্ছেন এবং কোন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন এসবের ওপর মোট উপার্জন নির্ভর করে।
রয়েছে ভ্রমণসহ নানা সুবিধা
বেতনের পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটরা চাকরিজীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে পাইলট ও যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য ভ্রমণ সুবিধা অন্যতম।
এয়ার ইন্ডিয়ার নিজস্ব নেটওয়ার্ক এবং অংশীদার এয়ারলাইন্সে ছাড়ে বা স্ট্যান্ডবাই ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব পালনকারী পাইলটদের জন্য রয়েছে বিদেশে অবস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা। এর মধ্যে হোটেল, খাবার এবং আন্তর্জাতিক লে-ওভার ভাতা উল্লেখযোগ্য।
সব মিলিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের প্রকৃত বার্ষিক আয় নির্ধারণে শুধু মূল বেতন দেখলেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। অভিজ্ঞতা, পদ, বিমানের ধরন, ফ্লাইং আওয়ার এবং আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব সবকিছু মিলিয়েই একজন পাইলটের মোট উপার্জন নির্ধারিত হয়।









