রাজশাহীর দুর্গাপুরে এক কীটনাশক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৬৭০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের খবর পেয়ে সটকে পড়েন ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার ২ নম্বর কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ইল গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে বৃষ্টির কারণে জব্দকৃত সার ভটভটি গাড়িযোগে উদ্ধার করে নিয়ে আসার কার্যক্রম শেষ করতে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত সময় লাগে।
দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আড়ইল গ্রামের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুত করে রাখার তথ্য পায় প্রশাসন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বাড়ির বারান্দায় স্তূপ করে রাখা ৬৭০ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৩২৪ বস্তা ডিওপি, ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া ও ১০০ বস্তা টিএসপি সার রয়েছে। অভিযানকালে ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভিন লাবনীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার তালাবদ্ধ করে কৌশলে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অসাধু উপায়ে বিপুল পরিমাণ সার মজুত করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় লোকজন।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে ৬৭০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। এসব সার অবৈধভাবে মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এদিকে উদ্ধার করা সার আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে এসব সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।’









