সুমাইয়ার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়। এরপর ছয় মাসের প্রেম। প্রবাস থেকে খোরশেদ আলী (৪৮) মোবাইল ফোনে বিয়েও করেছেন। বিয়ের পর ভিডিও কলে ‘স্ত্রীকে’ দেখতে চাইলে শুরু হয় নানান অজুহাত। ছয় মাস খোরশেদ আলীর কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করেছেন সুমাইয়া।
তবুও সুমাইয়ার সঙ্গে অডিও কলে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছিল প্রবাসীর। গতকাল বুধবারও (৫ অক্টোবর) ‘স্ত্রী’ সুমাইয়াকে ভিডিও কল দেন খোরশেদ আলী। তবে ফোনটি ধরেন নাটোরের লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম।
ওসির সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে খোরশেদ জানাতে পারেন, নারী ভেবে এতদিন যার সঙ্গে কথা বলেছেন, বিয়ে করেছেন সেই সুমাইয়া আসলে নারী নন, শান্ত নামের এক তরুণ। নারী কণ্ঠে খোরশেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। প্রতারণার মাধ্যমে করেছিলেন বিয়েও। এত দিন খোরশেদ আলীকে ঠকিয়ে বিপুল অর্থও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী খোরশেদ আলী দাবি করেন, মাস ছয়েক আগে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর থেকে ভরণপোষণসহ নানান কাজে অজুহাত দেখিয়ে তার কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেন ওই তরুণ। কিন্তু ভিডিও কলে নিজের চেহারা দেখাননি। চেহারা দেখতে চাইলে মোবাইল ফোনের সামনের ক্যামেরা অকেজো থাকার কথাও বলতেন।
পুলিশের ভাষ্য, মোবাইল ফোনে প্রতারণার অভিযোগে বুধবার সকালে নাটোরের লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের থানায় নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণা কথা শিকার করেন। আটকের পরই কথিত সুমাইয়ার পরিচয় সামনে আসে। পুলিশ জানতে পারে সুমাইয়াই আসলে শান্ত আলী।
পুলিশ ভিডিও কলে খোরশেদ আলীকে তার কথিত স্ত্রী সুমাইয়া নামধারী শান্ত আলীকে দেখায়। খোরশেদ আলী শান্তকে দেখার পর বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনও ভাবিনি। ওই প্রতারকের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
শান্তর এমন প্রতারণায় সহায়তা করতেন তার বাবা শহিদুল ইসলামও। তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, শান্তর বয়স এখন ২০ বছর। তিনি লেখাপড়া জানেন না। তবে মোবাইল কেন্দিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বেশ দক্ষ। মোবাইল ফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলতেন। মেসেজও আদান-প্রদান করতেন। খোরশেদ আলী ছাড়াও বহু প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
গ্রেফতারদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছ, বিয়ে করার পর শান্তর বাবা শহিদুল ইসলাম শ্বশুর হিসেবে বহুবার কথা বলেছেন খোরশেদ আলীর সঙ্গে। বাবা-ছেলের এমন প্রতারণা কোনোভাবেই ধরতে পারেননি প্রবাসী খোরশেদ আলী।
গতকাল সকালে শান্ত ও শহিদুলকে গ্রেফতারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব ফোনে খোরশেদ আলীর সঙ্গে মেসেজ বিনিময়ের বহু প্রমাণও পাওয়া গেছে।
খোরশেদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে একজন নারীর ছবি দিয়ে ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে প্রবাসীর সঙ্গে ওই মেসেঞ্জারে পরিচয় ঘটে। পরিচয় একপর্যায়ে প্রেমে পরিণত হয়। ফেসবুকে ব্যবহার করা এক নারীর তিনটি ছবিও তিনি খোরশেদ আলীকে পাঠান শান্ত।
ওসি আরও বলেন, বাড়ির পাশের জমি কেনার জন্য সুমাইয়া সেজে টাকার বায়না ধরেন শান্ত। খোরশেদ আলী বাধ্য হয়ে একদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা দেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এভাবে মোট তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো দেওয়া হয়।