১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে সমালোচনার মুখে প্রধান শিক্ষক, অভিভাবকদের ক্ষোভ: তদন্তের নির্দেশ

নওগাঁ প্রতিনিধি
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৪২ আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৪২

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। 

তাদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে অসমভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এতে শিক্ষার্থীদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। এমন ঘটনায় বিব্রত ও অস্বস্তিতে পড়ে শিশুরা। 

অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেন। তবে কী কারণে শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুল ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। শীতের মধ্যে এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। 

বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল। চোখের ওপর এসে পড়ছিল। দেখতে খারাপ দেখার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন এভাবে চুল কেটে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমি প্রশিক্ষণে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্ত করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের জন্য বিদ্যালয় হওয়ার কথা নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। অথচ শৃঙ্খলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বইয়ের পাশাপাশি দেওয়া হবে খেলনা: ববি হাজ্জাজ
প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে রূপপুর
সবার সামনে লটারি করে পদায়ন পেলেন সরকারি প্রাথমিকের ২৯৭ নতুন শিক্ষক
সর্বশেষ খবর
শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সেতুমন্ত্রী বললেন, ‘তাকে দেশে আসতে না করেছে কে’
শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সেতুমন্ত্রী বললেন, ‘তাকে দেশে আসতে না করেছে কে’
মিরপুরে প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ
মিরপুরে প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ
পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ, দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে চায় সরকার
পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ, দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে চায় সরকার
এবার মেয়ের জন্য খাবার কিনতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা 
এবার মেয়ের জন্য খাবার কিনতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা 
সর্বাধিক পঠিত
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
রেডি হও জামায়াত, তোমাদের উপযুক্ত জায়গা পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া 
রেডি হও জামায়াত, তোমাদের উপযুক্ত জায়গা পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া 
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
‘আমরা সবজির ওপরই নির্ভরশীল, মাছ-মাংস জোটে কালেভদ্রে’
‘আমরা সবজির ওপরই নির্ভরশীল, মাছ-মাংস জোটে কালেভদ্রে’