লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৪টি মামলার এজাহারভূক্ত আসামির বক্তব্য প্রদানের ঘটনায় ‘তোলপাড়’ শুরু হয়েছে। সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধকল্পে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি’র লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের সাংসদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। আর এই মঞ্চেই উপস্থিত ছিলন দুদকের ১৪টি মামলার আসামি কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রতিমন্ত্রীর ছোটভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আলম বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মাহবুবুজ্জামান সাহেবকে বিশেষ অতিথি করা হয়। তিনি দুদকের এজাহারভূক্ত আসামি কী না সেটি আমার জানা ছিল না।
রংপুর দুদক সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ এজাহারনামীয় আসামি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ মামলার প্রকল্প কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে গত ১৪ জুন রংপুর কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে আটক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
দুদকের লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানও মাহবুবুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, মাহবুবুজ্জামানের বিরুদ্ধে আদালতের কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই।
এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে দুর্নীতি মামলার আসামির উপস্থিতির ঘটনায় এলাকায় সমলোচনা ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, একই মামলার আসামি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ণ চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অথচ প্রতিমন্ত্রীর ভাই হওয়ায় অপর আসামি অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন।
আলোচনা সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিক ও শিক্ষক মহেন্দ্রনাথ রায়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) শহীদ সোহরাওয়ার্দী, কালীগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেনসহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রংপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (এডি) জাকারিয়া বাদী হয়ে অস্তিতহীন ১৯টি ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৪৮ মেট্রিক টন জিআর চাল আত্মসাতের ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একই দিনে পৃথক মোট ১৯টি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে তৎকালীন তুষভাণ্ডার ইউপি চেয়ারম্যান (বর্তমান কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান) মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো।
- ‘সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ’-এর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই: জয়
- হাসপাতালে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০, পাকিস্তানজুড়ে অভিযানের আদেশ
/এমও/







