গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ রেল স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে। মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমির ‘জবরদখলকারীদের’ উচ্ছেদ ও জমি উদ্ধারের দাবিতে শনিবার সকালে ৯টা টায় রেলপথ অবরোধ করা হয়।
রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, আখচাষি সমিতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করছে।
এ অবরোধের ফলে লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ও ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনসহ লালমনিরহাট এবং দিনাজপুর থেকে সান্তাহার ও ঢাকা রেল রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।
গাইবান্ধা রেল স্টেশন মাস্টার আবুল কাসেম জানান, অবরোধকারীরা মহিমাগঞ্জ স্টেশনের রেল লাইনের উপর শুয়ে পড়ে অবরোধ করছেন। খবর পেয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ওসির নেতৃত্বে একদল রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসে অবরোধকারীদের সরানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে অবরোধ চলাকালে ওই স্থানে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান, আখচাষি সমিতির সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, নিজেদের বাপ-দাদার জমি দাবি করে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের বেশ কিছু জমি দখল করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতাল ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। এতে করে গত এক সেপ্টেম্বর থেকে আখ রোপণ মৌসুম শুরু হলেও রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বারবার আশ্বাস দিয়েও প্রশাসন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি উদ্ধারে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রসঙ্গত ১৯৫৫ সালে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর, রামপুরা, সাপমারা, ফকিরগঞ্জ ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখল করার উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি সখানে একচালা ঘর নির্মাণ করেন।
এ ব্যাপারে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি সিলিমিন বক্স বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে বলা হয়, ওই সব জমিতে কখনও আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দিতে হবে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওই সব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আন্দোলন করেও কাজ হয়নি। তাই তারা দখল করেছে।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনও চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সে ক্ষেত্রে ওই সব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে।
আরও পড়ুন-
৩৩ মিনিটের অভ্যর্থনা, ৬ ঘণ্টার যানজট!
/এফএস/







