দিনাজপুরে ইয়াবা চালানকে কেন্দ্র করে মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে যুবলীগের ২ কর্মীকে আটক করেছে র্যাব। এই ঘটনায় বুধবার রাতে নিহতের বড় ভাই মতিউর রহমান বাদী হয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আটক যুবলীগ কর্মীরা হলেন, দিনাজপুর জেলা সদরের খোদমাধবপুর এলাকার গোলাম মির্জা মামুন (৩৫) ও ৩ নম্বর উপশহর এলাকার মিথুন (৩০)।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, বুধবার এ ঘটনায় দুজন আসামিকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় সোর্পদ করেছে র্যাব। বাকি আসামিদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে সদর উপজেলার মহতুল্লাহপুর গাজার মারি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম (১৮) খোদমাধবপুর গ্রামের মির্জা মামুন নামে এক ব্যক্তির ট্রাকের হেলপার হিসেবে চট্টগ্রামে যায়। ২৬ অক্টোবর পরিবারের লোকজন মোবাইল ফোনে জানতে পারে মঞ্জুরুল ইসলাম দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। সেখানে গিয়ে তারা মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে জানতে পারেন, ট্রাকের মালিক মির্জা মামুনের নেতৃত্বে স্বেছাসেবকলীগ জেলা কমিটির নেতা সিরাজুল সালেকিন রানা ও যুবলীগের তরিকুলসহ কয়েকজন মিলে ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে যায়।এসময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ট্রাকে করে যে ইয়াবা চালান আসছিল তা কোথায়। বিষয়টি মঞ্জুরুল জানে না বলার পরও তাকে উপশহর ১ নম্বর ব্লকের বেগম তৈয়বা বেগম রেডক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংকে আটকে রেখে সারারাত ধরে নির্যাতন করা হয়।
মঞ্জুরুলের পরিবারের অভিযোগ, তাকে গরম পানির বোতল ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পেটানো হয়। পরে মঞ্জুরুল ইসলামের হাতের নখ প্লাস দিয়ে তুলে ফেলা হয়। এরপর তাকে দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক শক। খবর পেয়ে পরের দিন বুধবার (২৬ অক্টোবর) সকালে গুরুত্বর আহত অবস্থায় মঞ্জুরুলকে উদ্ধার করে র্যাব সদস্যরা দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে গেলে মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন-
জেলহত্যা মামলা: অনেক আসামিই বিচারের মুখোমুখি হয়নি
/এমডিপি/এফএস/








