ঈদের পর থেকে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ঢাকাগামী দিবা ও নৈশ কোচের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। সাত ঘণ্টার যাত্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগছে। কখনও কখনও ৩০ ঘণ্টাও লাগছে বলে জানান এস আর ট্রাভেলসের ম্যানেজার রিপন ।
রংপুরের পীরগঞ্জ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত অসহনীয় যানজট। এ কারণে সকালের বাস রাতে আর রাতের বাস পরের দিন বিকেলে কিংবা রাতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
রবিবার সকালের রংপুর থেকে ঢাকাগামী সব বাস বাতিল করেছে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ। বেলা ১০টার দিকে রংপুর নগরীর কামারপাড়া ঢাকা বাস স্ট্যাণ্ডে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি বাস কাউন্টারে যাত্রা বাতিলের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে যাদের বাস সকাল ৭ থেকে ১০টার মধ্যে ছিল তারা বাস টার্মিনালে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন।
মৌরী নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান,এস আর ট্রাভেলসের সকাল ৯টার বাসে তার ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। তিনি যথা সময়ে বাস টার্মিনালে আসার পর তাকে জানানো হয়েছে সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে তার যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। সকাল ৯টার বাস যাত্রীদের রাত ৮টায় আসতে বলা হয়েছে।
একই কথা জানানো হয়েছে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার থেকে। সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে বাস ছাড়ার কথা থাকলেও আপাতত বাতিল করা হয়েছে। এই বাস আবার কখন ছাড়বে তা বলা সম্ভব নয়। সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিকেলের বাসই এখন পর্যন্ত রংপুরে এসে পৌছেনি বলে জানান হানিফের কাউন্টার ম্যানেজার।
কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায় শ্যামলী, নাবিল, আগমনী, এনা ও ডিপজলসহ সব পরিবহনেরই এক অবস্থা।
এ ব্যাপারে এস আর ট্রাভেলসের ম্যানেজার রিপন জানালেন, রংপুর থেকে ঢাকায় যেতে ২৪ ঘণ্টা থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগছে। যাত্রা পথে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ যানজটের কারণে গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে বাসগুলো নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ঢাকায় পৌঁচাচ্ছে। এমন অবস্থায় সিডিউল মেলানো যাচ্ছে না। তাই যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কাল রাত সাড়ে ৯ টায় ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যেসব বাস ছেড়েছে, সেগুলো সকাল ৯ টায় টাঙ্গাইল আছে। অথচ এই বাসের ভোরে রংপুরে আসার কথা। সন্ধ্যার আগে এই বাসগুলো আসার কোনও সম্ভাবনা দেখছি না। অন্যদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নাইট কোচগুলোর কোনও খবর নেই। এ কারণে বার বার যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার বাপ্পি জানান, ঈদের পর থেকে সিডিউল বিপর্যয় চলছে। ফলে সারা দিনই রংপুর থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে। এরমধ্যে শতাধিক বার যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সকালের বাস রাতে কিংবা পরের দিন সকালে বা দুপুরে, রাতের বাস একদিন পর ছাড়তে হচ্ছে। এতে করে একদিকে যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ হচ্ছে। তেমনি তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।
নাবিল পরিবহনের ড্রাইভার রফিক জানালেন, শুক্রবার রাত ১১টায় ঢাকা থেকে বাস নিয়ে রওয়ানা দেওবার পর চন্দ্রায় দুই ঘণ্টা লেগেছে। এরপর টাঙ্গাইল পার হতে ১২ ঘণ্টা লেগেছে। এরপর সিরাজগঞ্জ পার হতে আড়াই ঘণ্টা, বগুড়া পার হতে সাড়ে ৩ ঘণ্টা লেগেছে। এরপর রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রংপুরে এসেছি। ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগছে বলে জানালেন তিনি।
তিনি জানান, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ হচ্ছে খারাপ রাস্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার নামে অরাজকতা। অন্যদিকে বগুড়ার মহাস্থানে একটি ব্রিজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসের সুপারভাইজার বলেন, ‘সেতু মন্ত্রী বগুড়া ও টাঙ্গাইলে এসে মানুষের দুর্ভোগ নিজের চোখে দেখে না দেখলে, উত্তরাঞ্চলের মানুষের এ দুর্ভোগ আগামী এক মাসেও নিরসন হবে না।
আরও পড়তে পারেন: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের বিচার দাবি মানবাধিকার কমিশনের







