রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের মধ্যে উত্তাপ বাড়ছে ততই। একে অপরের বিরুদ্ধে কথার তুবড়ি ছোটাচ্ছেন তারা। তবে এবার নির্বাচন কমিশনের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই মেয়র প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু ও বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা দুই জনেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন। প্রার্থীরা সবাই একে অপরের বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন।
ঝন্টু অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জরিমানা করা হচ্ছে। অথচ জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মঞ্চ বানিয়ে নির্বাচনি সভা করলেও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর নগরীর ধাপ কাঁচাবাজারে গণসংযোগ করার সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালিয়ে আসছি। অথচ নির্বাচন কমিশন আমার প্রতি বৈরী আচরণ করছে। তারা ঠুনকো অভিযোগে আমাকে দুই দফায় জরিমানা করেছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। অথচ জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তফা অব্যাহতভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। এককভাবে আমার ওপর চড়াও হওয়া ঠিক নয়। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’
ঝন্টু আরও অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জে স্টেজ বানিয়ে জাতীয় প্রার্থী নির্বাচনি সমাবেশ করেছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ করা হলেও তারা কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
তবে নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে ঝন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থীরা। এই অভিযোগ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ঝন্টু বলেন, ‘টাকার অভাবে আমি নির্বাচনে প্রচারণাই চালাতে পারছি না। অথচ যারা এসব অভিযোগ করছে তারা কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করছে। আমার টাকাই নাই। তাই কালো টাকা আর সাদা টাকা খরচ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’
ঝন্টুর আনা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। বুধবার দুপুরে নগরীর সিটি বাজারে গণসংযোগ করতে গিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। মঙ্গলবার রাতে মাহিগঞ্জে পেছনে কাপড় লাগিয়ে খোলা জায়গায় পথসভা করেছি। সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনও কাজ আমি করিনি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাঠের অবস্থা শোচনীয় বুঝতে পেরে আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছেন।’
মোস্তফা আরও বলেন, ‘লাঙলের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’ নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগকে বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি মোস্তফা একজন সাধারণ মানুষ। আমার কোনও টাকা পয়সা নাই এটা নগরবাসী জানেন। নগরীর পান দোকানদার, চায়ের দোকানদার, ছোট ছোট ব্যবসায়ী এরাই আমাকে সহায়তা করছেন। সে কারণে এসব অভিযোগ করে কোনও লাভ হবে না।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় অর্ধ কোটি টাকা, উনি নিজেই তা দেখিয়েছেন। সেখানে কালো টাকা ছড়ানোর ক্ষমতা কার আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
এদিকে বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা বুধবার বিকালে নগরীর মাহিগঞ্জ, মেকুড়াসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যেই মোটরসাইকেলে করে শোডাউন করছেন, সভা-সমাবেশ করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কমিশন। তারা কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। ফলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। এ জন্যই আমি সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছি।’
এদিকে সিপিবি বাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে প্রধান তিন দলের প্রার্থীই কালো টাকা বিতরণ করছে। তারা কোটি কোটি টাকা ছিটিয়ে ভোটের পরিবেশকে কলুষিত করছে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। এখানে কোনও পক্ষপাতিত্ব করার প্রশ্নই আসে না। কালো টাকা ছড়ানোর ব্যাপারে কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন- ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনও কারণ নেই’








